বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের বিপক্ষে জাপানের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। টানা দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী ভারতকে মাত্র ৩২ রানে আটকে দিয়ে বড় অঘটনের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল র্যাংকিংয়ের ৪১ নম্বরে থাকা জাপান। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। ৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জাপানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩০ রান। ফলে ২ রানের জয় নিয়ে কোনোমতে রক্ষা পায় ভারত।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচের ফল নির্ধারণের জন্য ন্যূনতম ৫ ওভার খেলা প্রয়োজন। বৃষ্টির কারণে সেই হিসাবেই ম্যাচটি ৫ ওভারে সীমাবদ্ধ রাখেন ম্যাচ আম্পায়াররা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) টস জিতে ভারত প্রথমে ব্যাটিং নেয়। শক্তির বিচারে বড় ব্যবধান থাকায় ভারতীয় ব্যাটারদের কাছ থেকে শুরুতেই বড় রানের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু জাপানের স্পিনাররা সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেন।
ভারতের ইনিংসের শুরুতেই আসে জোড়া ধাক্কা। প্রথম ওভারের শেষ বলে কোনো রান না করেই ফিরে যান অভিষেক শর্মা। তাঁকে ফেরান চার্লি হারা হিনজে। পরের বলেই বিদায় নেন সঞ্জু স্যামসন। ৭ বলে ৯ রান করে তিনি ইবরাহিম তাকাহাশির বলে আউট হন।
মাত্র দেড় ওভারেই ভারতের ৩ উইকেট পড়ে যায়। এরপর ঈশান কিষাণও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৬ বলে মাত্র ৩ রান করে বেনজামিন ইতো ডেভিসের শিকার হন তিনি। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ১২ বলে ১৬ রানের বেশি করতে পারেননি। তার ইনিংসে ছিল একটি চার। আইয়ারের উইকেটটিও নেন হিনজে।
৫ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ভারতের রান গিয়ে থামে ৩২-এ। পুরো ইনিংসে চার এসেছে মাত্র দুটি, ছক্কার দেখা মেলেনি একবারও। জাপানের পাঁচ ওভারই করেছেন স্পিনাররা। অচেনা কন্ডিশন ও টার্নিং উইকেটের পূর্ণ সুবিধা নিয়ে ভারতীয় ব্যাটিংকে কার্যত অচল করে দেন তারা।
রান তাড়ায় জাপানের শুরুটা অবশ্য ভারতের চেয়ে ভালোই ছিল। জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৩ রান। হাতে উইকেটও ছিল। কিন্তু ভারতের স্পিন আক্রমণের সামনে সেই লক্ষ্যও কঠিন হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে জয়ের খুব কাছে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ৫ ওভারে ৩ উইকেটে ৩০ রানে থামে জাপানের ইনিংস।
ফলে ২ রানের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে যায় ভারত। তবে এমন অপ্রত্যাশিত লড়াইয়ের পর স্বস্তির চেয়ে দুশ্চিন্তাই হয়তো বেশি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ভারতীয় দলকে। সামনে এশিয়ান গেমসের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্যাটিংয়ের এমন দুর্বলতা যে দলটির ভাবনার কারণ হবে, তা বলাই যায়।

