spot_img

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধ, ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করল হোয়াইট হাউস

অবশ্যই পরুন

সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার পর এবার নিজস্ব ২৪ ঘণ্টার স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এতে ট্রাম্পের পুরোনো ভাষণ ও জনসম্মুখে দেয়া বক্তব্যের পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন ঘোষণা ও সর্বশেষ আপডেটের ভিডিও ও খবর প্রচার করা হবে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, স্থানীয় সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ২৪ ঘণ্টার স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করা হয়। প্ল্যাটফর্মটিতে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রশাসনের কার্যক্রমের ভিডিও এক জায়গায় দেখানো হবে।

‘ট্রাম্প টিভি’ চালুর ঘোষণা দিয়ে হোয়াইট হাউসের এক্স অ্যাকাউন্টে বলা হয়, ‘এটি এখন সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেছে। ট্রাম্প টিভি ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন সম্প্রচার করবে। পুরোনো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, বিভিন্ন ঘোষণা এবং প্রশাসনের সর্বশেষ কর্মকাণ্ড—সবকিছু এক জায়গায় পাওয়া যাবে। টেলিভিশনে ট্রাম্পের সব গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়তো দেখা যায়নি, এখন সেগুলো দেখার সুযোগ থাকবে।’

চালুর সময় ট্রাম্পের বিভিন্ন সময়ে জনসম্মুখে দেয়া বক্তব্য ও অনুষ্ঠানের ভিডিও দেখানো হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার শপথ নেয়ার দৃশ্যও ছিল।

মূলত হোয়াইট হাউসের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বড় সংবাদমাধ্যমের বিরোধ যখন আরও তীব্র হচ্ছে, ঠিক তখনই ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করা হলো। এর আগে সোমবার সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওয়ের ওপর হোয়াইট হাউসের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নেন ট্রাম্প। যদিও ওই তিন সংবাদমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে।

সোমবার নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সঙ্গে বৈঠকের পর গ্রেসি ম্যানশনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় তাকে বয়কট করার কথা সংবাদমাধ্যমগুলো বললেও তা বাস্তবে হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা বলেছিল, তারা আমাকে বয়কট করবে। কিন্তু তারা কখনোই আমাকে বয়কট করে না। তাই এ নিয়ে আমি খুব একটা চিন্তিত ছিলাম না। আপনারা তো দেখতেই পাচ্ছেন, এখানে কত সাংবাদিক।’

সংবাদমাধ্যমগুলোর ন্যায্যভাবে খবর প্রকাশের দায়িত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যেসব সংবাদমাধ্যম ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ করে, তাদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ সীমিত করার দায়িত্বও তার প্রশাসনের রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এসব সংবাদমাধ্যমের ন্যায্যভাবে খবর প্রকাশের দায়িত্ব রয়েছে। আর তারা যদি ভুয়া খবর প্রকাশ করে, তাহলে আমার মনে হয়, হোয়াইট হাউসে তাদের প্রবেশ করতে না দেয়ার দায়িত্বও আমার রয়েছে।’

হোয়াইট হাউসও এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যমকে খবর প্রকাশের অধিকার দেয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণ, ব্রিফিং কক্ষ বা প্রেসিডেন্টের সংবাদমাধ্যম পুলে প্রবেশের নিশ্চয়তা দেয় না।

তবে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো আদালতে এই নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তাদের বক্তব্য, কোনো সংবাদমাধ্যম কীভাবে খবর প্রকাশ করছে, তার ভিত্তিতে সরকার কোন সাংবাদিক হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে পারবেন বা পারবেন না—এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

এদিকে এই বিরোধের প্রভাব পড়েছে হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন পুলেও। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মকাণ্ডের ভিডিও ধারণ করে অংশগ্রহণকারী সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে তা সরবরাহ করা হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি অধিবেশনের মূল পর্বে বক্তব্য দেবেন এবং বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

বিদেশে পালানোর চেষ্টা নওফেলের স্ত্রী ইমা বার্টনের, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের স্ত্রী ইমা ক্লেয়ার বার্টনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞার...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ