রাফিনিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সেভিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা অষ্টম জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে গেছেন ১৪-তে।
মাত্র তিন দিন আগেই রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে বার্সেলোনার ৭-২ গোলের জয়ে তিনবার লক্ষ্যভেদ করেছিলেন ২৯ বছর বয়সী রাফিনিয়া। এবার সেভিয়ার মাঠেও তার পায়ে দেখা গেল একই ঝলক।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বার্সেলোনার পক্ষে ছিল না। দ্বিতীয় মিনিটেই বিপজ্জনক আক্রমণ ঠেকিয়ে সেভিয়ার ক্রস থেকে বল কেটে দেন রদ্রি। এরপর বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তার জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় পোস্টের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন সেভিয়ার গোলরক্ষক ওডিসেয়াস ভ্লাখোদিমোস।
বার্সেলোনা এরপর পেনাল্টির দাবি জানায়। পাউ কুবার্সি পড়ে গিয়ে আন্দ্রেস কাস্ত্রিনের ধাক্কার অভিযোগ করলেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি। ১৯তম মিনিটে অবশ্য এগিয়ে যায় সেভিয়া। ফেলিক্স কোরেইয়ার চমৎকার ক্রস পেয়ে ইয়ুসুফ ফোফানা কাছের পোস্টে হেড করে বল জালে পাঠান।
সেভিয়ার লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন মিনিট পরই বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান রাফিনিয়া। আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনের বাড়ানো বল ধরে রাফিনিয়া প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার অরুনা সাঙ্গান্তেকে কাটিয়ে নিচু শটে বল পাঠান জালে। ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। প্রথমার্ধের শেষদিকে পেদ্রি ভালো অবস্থান থেকে শট নিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। বিরতির পরও ইয়ামাল কাছাকাছি গিয়েছিলেন, কিন্তু তার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বার্সেলোনা আক্রমণের গতি বাড়ায়। ৫২ মিনিটে ইয়ামালের বাড়ানো বলে হেড করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রাফিনিয়া। গোলটির আগে ইয়ামাল রিবাউন্ড থেকে বল তুলে বক্সের ভেতর চিপ করে দেন, আর সেখান থেকেই সুযোগ কাজে লাগান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এর কিছুক্ষণ পরই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ক্রিস্টেনসেন।
৬৪ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণের সুযোগ পেয়েছিলেন রাফিনিয়া। তার কাছ থেকে নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে পাঁচ মিনিট পর আর ভুল করেননি তিনি। রদ্রির পাস ধরে ইয়ামাল বক্সের দিকে এগিয়ে রাফিনিয়ার জন্য বল বাড়িয়ে দেন। রাফিনিয়া নিখুঁতভাবে বলটিকে গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে জালে পাঠিয়ে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।

