ইরানের ফার্স প্রদেশের লামের্দ শহরে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলাকে ‘স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তাঁর দাবি, মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের মধ্যে শহরটির ওপর প্রায় ২ হাজার কেজি বিস্ফোরক নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
সোমবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করতেই যুক্তরাষ্ট্র লামের্দের বেসামরিক এলাকায় ওই হামলা চালিয়েছে।
সম্প্রতি লামের্দ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাঘাই বলেন, শহরটিতে তিনি যা দেখেছেন, তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের চেয়েও ভয়াবহ। প্রায় ৩০ হাজার মানুষের এই ছোট শহরের কেন্দ্রস্থল ও বেসামরিক এলাকাগুলোকে অত্যাধুনিক অস্ত্রের ‘পরীক্ষাগারে’ পরিণত করা কোনো মানবিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় শার্পনেলভর্তি চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। প্রতিটির ওজন ছিল প্রায় ৫০০ কেজি। এসব ক্ষেপণাস্ত্রে বিপুলসংখ্যক ছোট ধাতব টুকরো বা পেলেট ছিল। স্টেডিয়াম, আবাসিক এলাকা, রক্ত সঞ্চালন কেন্দ্রের আশপাশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো বেসামরিক স্থাপনার কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ক্লাস্টার মিউনিশন বা গুচ্ছবোমা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার এবং বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করার কারণে এই হামলা যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়ে। তাঁর অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের প্রথম দিনেই লামের্দসহ বিভিন্ন শহরে হামলা চালানো হয়।
বাঘাই জানান, লামের্দের হামলায় একজন আফগান নাগরিকসহ ২১ জন নিহত হয়েছেন। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের দুর্ভোগও অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে হামলায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান ইরানের এই মুখপাত্র।
সংবাদ সম্মেলনে হেঙ্গাম দ্বীপের কাছে ইরানি একটি জাহাজে মার্কিন হামলার বিষয়টিও তুলে ধরেন বাঘাই। তাঁর দাবি, ওই হামলায় একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন; আহতদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন।
বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে একদিকে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, অন্যদিকে ইরানের উপকূল ও সীমান্তের কাছেই দেশটির জাহাজে হামলা চালাচ্ছে।
এ সময় হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বাঘাই জানান, কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর দুই দেশ হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ-চলাচলের পথ নিশ্চিত করতে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।
তাঁর মতে, দুই দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখে করা এই চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী এলাকায় নিরাপদ নৌ-চলাচলের পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। মেহের নিউজ

