নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাখাওয়াত হোসেন শুভ্র নামে এক গার্মেন্ট কর্মকর্তা হত্যার ঘটনায় ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ২ বছরের বিনাশ্রম করাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়র জজ মো. আবু শামীম আজাদ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণাকালে আদালতে ৫ জন উপস্থিত ছিল এবং বাকী দুইজন পলাতক ছিল।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বাবুল সাহা জীবন (৪২), নাজমুল ইসলাম (৩৭), সঞ্জয় দাস (৩৯), মিলন (৪১), বশির (৪০), সমীর চন্দ্র মন্ডল (৩৯) ও কাউছার (৪৩)। কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সাখাওয়াত হোসেন শুভ্র মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি থানার পলাশপুর গ্রামের শাহাদাৎ শিকদারের ছেলে। সে ফতুল্লার মাসদাইর লিচুবাগ এলাকার মাইকেলের বাড়িতে ভাড়া থাকতো।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির জানান, নিহত সাখাওয়াত হোসেন শুভ্র উত্তর নরসিংপুর এলাকাতে অবস্থিত রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট কারখানা প্লামি ফ্যাশনে চাকরি করতো। ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট শুভ্রর মোবাইলে কল করে তাকে ফতুল্লার মাসদাইরের আদর্শ স্কুলের উত্তর পার্শ্বের ‘মায়ের আচল’ নামে একটি নির্মাণাধীন ১২ তলা ভবনের ৭ম তলায় ডেকে নিয়ে যায় শহরের দেওভোগ আখড়ার গনেশ সাহার বাড়ির ভাড়াটিয়া দানেশ সাহার ছেলে বাবুল সাহা জীবন। সেখানে জীবনের সঙ্গে তার বন্ধু নাজমুল ইসলাম, সঞ্জয় দাস, মিলন, বশির, সমীর, কাওছার সহ ৭জন ছিল।
তিনি আরও বলেন, তারা শুভ্রকে মাথার পেছনে ও সামনে আঘাত করে শ্বাসরোধে হত্যা করে ৭ তলা থেকে নিচে ফেলে দেয়। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য শুভ্রর লাশ ওইদিন রাত ৯টার দিকে শহরের খানপুরের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে চলে যায়। পরে হাসপাতালের ধারণকৃত সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বশির ও সমীর নিহত শুভ্রের লাশ হাসপাতালে রেখে যায়। এই ঘটনায় শুভ্রর বাবা বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করলে তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৭ জনকে দোষী চার্জশিট দাখিল করেন। আদালতে ৩৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৯ জন সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। সেই মামলায় আদালত এই রায় ঘোষণা করেছেন।

