spot_img

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার অভিযোগ; কখনো কখনো এমনটা হয়ে যায়, বলছে যুক্তরাষ্ট্র

অবশ্যই পরুন

ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। ওয়াশিংটনের দাবি, তারা এই খবর তদন্ত করে দেখছে। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনো বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। একইসঙ্গে যুদ্ধের সময় ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে কখনো কখনো এমন ঘটনা ঘটে যায়’ বলেও দাবি করেছেন তিনি।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় বেসামরিক লোকজন হতাহতের তদন্তের বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেডি ভ্যান্স। তবে মার্কিন বাহিনীই এই হামলার জন্য দায়ী কি না, তা নিশ্চিত করার মতো কোনও তথ্য তার কাছে নেই। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বিষয়ে ভ্যান্স বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি অত্যন্ত সন্দিহান’। তার দাবি, এসব প্রতিবেদনে সংঘাতের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেয়া হয়নি।

ভ্যান্স বলেন, ‘আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মতো যুক্তরাষ্ট্র কখনো যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। আমরা কখনোই তা করব না। অতীতেও কখনো করিনি।’

সামরিক অভিযানের সময় বেসামরিক নাগরিক হতাহত হতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি। ভ্যান্স বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, অবশ্যই কখনো কখনো এমন ঘটনা ঘটে যায়’। তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো ভুল করলে তা তদন্ত করা হয় এবং সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া হয়।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কারমানপুর বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বলেন, ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত ও ১৪২ জন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, নিহত ও আহতদের মধ্যে সিরিকে চারজন, খুজেস্তানে সাতজন, কেরমানশাহে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের চার সদস্য এবং লাভান দ্বীপে বাসিজ বাহিনীর তিন সদস্য রয়েছেন।

কারমানপুর আরও বলেন, সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এতে সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এদিকে ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেছেন, ওয়াশিংটন বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না করলে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ফেরারও কোনো পরিকল্পনা নেই যুক্তরাষ্ট্রের। ভ্যান্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বিষয়টি খুব পরিষ্কার করে বলেছেন—আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি না এবং তারা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কথা বলবও না।’

আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়ার দাবিও নাকচ করেন তিনি। তার যুক্তি, নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল আগেই অনুমান করা সম্ভব হবে এবং সেই সুযোগে ইরান হামলা চালিয়ে যেতে পারে।

বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিকসহ বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করছে বলে জানান ভ্যান্স। তিনি দাবি করেন, সংঘাত চলার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে।

ভ্যান্স বলেন, ‘ইরানিদের জন্য বার্তাটি খুব সহজ—বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করতে হবে।’

ইরানের সরকারবিরোধীদের সরাসরি সহায়তা দেয়ার কথা ওয়াশিংটন বিবেচনা করছে কি না, সে বিষয়েও মন্তব্য করতে রাজি হননি ভ্যান্স। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক, সামরিক, কূটনৈতিক ও গোপন পদক্ষেপসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ প্রশাসনের হাতে রয়েছে।

ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট এড়ানো।

তার দাবি, মার্কিন সামরিক অভিযান বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ইরানের কর্মকাণ্ডের প্রভাব কমিয়ে দিয়েছে। তবে তেহরানের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর নির্ভর করবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ

মধ্যরাতে তেল চুরি করতে গিয়ে বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রাণ গেল ৪৩ জনের

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার একটি জেটিতে তেল চুরির চেষ্টা করতে গিয়ে বিষাক্ত ধোঁয়ায় অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মধ্যরাতে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ