ইতালির রোমে কনসার্টকে ঘিরে নানা বিতর্কের মধ্যে এবার হোটেলকক্ষ নোংরা ও অগোছালো রেখে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন নগরবাউল জেমস।
তার দাবি, যে কক্ষটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটি তার ছিল না।
সেখানে ছিলেন দলের একজন তরুণ অতিথি গিটারিস্ট। বিষয়টিকে অযথা বড় করে দেখারও প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পী।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ইতালির ভেনিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয়ে কথা বলেন জেমস। একই সঙ্গে রোমের কনসার্টকে ঘিরে আয়োজকদের তোলা প্রতারণা ও অর্থসংক্রান্ত অভিযোগ নিয়েও চলছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।
১৬ আগস্ট রোমে একটি কনসার্টে অংশ নিতে জেমস ও তার সফরসঙ্গীরা বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ওঠেন। চেক-আউটের পর ওই কক্ষের কয়েকটি ছবি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আয়োজক প্রতিনিধির কথোপকথনের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এসব বার্তায় অভিযোগ করা হয়, একটি কক্ষ অপরিষ্কার ও অগোছালো অবস্থায় রেখে যাওয়া হয়েছে। হোটেল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই কক্ষটি ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে।
বিতর্কিত বিষয়টি নিয়ে জেমস বলেন, ‘অভিযোগটি ৫৪৯ নম্বর রুম–সংশ্লিষ্ট। রুমটিতে আমাদের একজন অতিথি গিটারিস্ট ছিলেন। ইয়াং ছেলে। নিয়ম কিন্তু সব সময় হোটেল থেকে ক্লিনিং করা। ইয়াং ছেলে, তারা হয়তো পরিষ্কার করেনি।
কিন্তু এটি এমন কোনো বড় বিষয় নয়। হোটেলে অনেক সময় এমন ঘটনা ঘটে থাকে। প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হয়, তারা হয়তো সেটি করেনি।’
বিষয়টিকে সাধারণ ঘটনা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘অনেকেই রুম এলোমেলো রাখে। যদি হোটেল কর্তৃপক্ষ সত্যিই ২০০ ইউরো জরিমানা করে থাকে, তাহলে এটা এমন কী বড় ফাইন (জরিমানা)? এমনও দেখা যায়, কেউ রুমে ধূমপান করে ১০০ বা ২০০ ইউরো জরিমানা দেয়। একেক দেশে একেক নিয়ম, এটি এমন বড় কোনো বিষয় নয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা হলেও তা নিয়ে খুব একটা বিচলিত নন জেমস। তার কথায়, ‘এটা নিয়ে এত বড় কোনো ইস্যু করার দরকারই নেই। তারা করতেছে করুক, করুক না। ফোন আছে, দুই-চারটা কথা লিখতেছে, লিখুক। বাধা দেওয়ার কিছু নেই। তারা মন খুলে লিখুক, স্বাধীনতা আছে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন জানান, যে কক্ষটি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেখানে জেমস অবস্থান করেননি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলের জন্য মোট চারটি কক্ষ নেওয়া হয়েছিল। জেমস ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে, আর রবিন ছিলেন ২৪৬ নম্বর কক্ষে। বিতর্কিত ৫৪৯ নম্বর কক্ষে ছিলেন দলের অন্য একজন সংগীতশিল্পী।
রবিন বলেন, ‘হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫৪৯ নম্বর কক্ষে ছিলেন দলের অন্য এক মিউজিশিয়ান। তাই একজনের কক্ষের অবস্থার দায় জেমসের ওপর দেওয়া ঠিক হবে না। তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা। তাঁকে নিয়ে এ ধরনের মিথ্যাচার কারও কাছেই কাম্য নয়।’
হোটেলের নিয়ম না মেনে কিংবা রিসেপশনে যোগাযোগ না করেই কক্ষ ছাড়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি।
রোমের ওই কনসার্ট ঘিরে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন ইতালির আয়োজক হোসাইন আহমেদ। তার দাবি, কনসার্টের অগ্রিম অর্থ ও টিকিট বিক্রির টাকা নিয়ে হিসাবের জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব অর্থের হিসাব দিতে রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় পুলিশ ডাকা হয়েছিল বলেও জানান আয়োজক।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে জেমসের পক্ষ। রবিনের দাবি, কনসার্ট আয়োজনের আগে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল এবং চুক্তি লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

