হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম মঙ্গলবার লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে মন্তব্য করেছেন, এই আলোচনা লেবাননের জন্য লজ্জা, অপমান, হতাশা এবং বারবার ছাড় দেওয়া ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনেনি। তিনি দেশটির কর্মকর্তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
বালবেকে আয়োজিত একটি আরবাইন স্মরণানুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাসেম উল্লেখ করেন, লেবাননের বিরুদ্ধে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন থামাতে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি সমঝোতা স্মারকটিই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক বিষয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত না হলে বর্তমান এই যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি কখনোই অর্জন করা সম্ভব হতো না।
তিনি আরও বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে ইসরায়েল রাজনৈতিকভাবে ফায়দা লুটলেও দেশের প্রতিরোধ আন্দোলন, সাধারণ মানুষ এবং সম্মানিত নাগরিকরা তাদের অবস্থানে সম্পূর্ণ অবিচল রয়েছে।
নিজের বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে লেবাননের রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ দেশের জন্য ইতিবাচক কিছু অর্জন করতে পারবে না এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফন্দিও সফল হতে দেবে না। তিনি লেবাননের কর্মকর্তাদের সকল ধরনের ছাড় দেওয়া থেকে বিরত থেকে অবিলম্বে প্রতিরোধ আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসার তাগিদ দেন।
যুদ্ধের সময় ইরানের অটুট দৃঢ়তার উচ্চ প্রশংসা করে কাসেম বলেন, আয়াতুল্লাহ খামেনেইয়ের শাহাদাত কোনো ধরনের পতন বা দুর্বলতা তৈরি করেনি, বরং তা গোটা জাতির জন্য গর্বের এক বিশাল উৎসে পরিণত হয়েছে। তার জানাজায় লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ইসলামি বিপ্লব ও এর নেতৃত্বের প্রতি জনগণের যে অবিচল ও গভীর সমর্থন রয়েছে, তারই এক জোরালো প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, তারা ইরানের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত এবং তাদের বিশ্বাস যে আঞ্চলিক অঙ্গনে ভবিষ্যতের সকল সাফল্য পুরো অঞ্চলের জন্য অশেষ কল্যাণ বয়ে আনবে।
সবশেষে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, হিজবুল্লাহ এবং আমাল আন্দোলনের মধ্যকার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক জোটটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এই ঐক্য শত্রুর যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে একটি দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়ে তুলেছে। সূত্র- মেহের নিউজ

