spot_img

ব্যালন ডি’অর পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় চমক, আবারও কি মেসির হাতে?

অবশ্যই পরুন

ব্যালন ডি’অরের লড়াই চূড়ান্ত পর্বে প্রবেশ করেছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে আটবারের ব্যালন জয়ী লিওনেল মেসি দেখিয়েছেন, তিনি এখনও এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পথে আটটি গোল করেছেন এবং গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুটও ক্ষণিকের জন্য নিজের করে নিয়েছিলেন আলবেসেলেস্তা দলপতি। প্রশ্ন উঠেছে আবারও কি মেসির হাতে উঠতে যাচ্ছে ব্যালন ডি’অর?

মেসিকে ব্যালনের একমাত্র যোগ্য মনে করা হলেও বিশ্বকাপে রদ্রি ও লামিন ইয়ামাল নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিয়েছেন। তাদের ব্যালন জয়ের সম্ভাবনা এড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। স্পেনের হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি জয়ের পর তাদের লক্ষ্য এখন ক্লাব ফুটবলে সর্বোচ্চটা উপহার দেওয়া।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক জনপ্রিয় ও বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ আবারও ব্যালন জিততে পারেন এমন ১০ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে। তাদের আগের তালিকায় ইংলিশ ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন ছিলেন এক নম্বরে। এবার স্পেনের হোল্ডিং মিডফিল্ডার রদ্রিকে স্থান দেওয়া হয়েছে শীর্ষে।

আগামী অক্টোবরে ব্যালন বিজয়ীর নাম ঘোষণার আগে দেখে নেওয়া যাক দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের সে তালিকায় কারা রয়েছেন।

রদ্রি: স্পেনের শক্তিশালী ডিফেন্সকে সুরক্ষা দেওয়া এবং মাঝমাঠ থেকে পুরো ম্যাচের গতি নির্ধারণ করে রদ্রি বিশ্বকাপে অসাধারণ এক টুর্নামেন্ট কাটিয়েছেন। তাঁর এই প্রভাবই টুর্নামেন্টের শীর্ষ গোলদাতা মেসি ও এমবাপেকে পেছনে ফেলে তাঁকে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ এনে দেয়। আগামী অক্টোবরে দ্বিতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতার ক্ষেত্রে এই পারফরম্যান্স হতে পারে অন্যতম নিয়ামক।

ঘরোয়া মৌসুমে খুব বেশি নজরকাড়া পারফরম্যান্স না থাকায় রদ্রির ব্যালন জয়কে হয়তো কিছুটা অবিচার মনে হতে পারে। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ইনজুরি থেকে ফেরার পর নিজের আসল ছন্দ খুঁজে পেতে তাঁর কিছুটা সময় লেগেছিল। সেই মৌসুমে পেপ গার্দিওলার দল এফএ কাপ ও লিগ কাপ জিতলেও প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা হাতছাড়া করে। তবে বিশ্বকাপ তো বিশ্বকাপই! আর ব্যক্তিগত এই পুরস্কারে দলীয় অর্জনের গুরুত্বকে আপনি সমর্থন করুন বা না করুন, বাস্তব সত্য হলো এটি অনেক বেশি প্রভাব ফেলে।

তিন বছরের মধ্যে তাঁর দ্বিতীয় মুকুট জয়ের সম্ভাবনা নির্ভর করছে পিঠের ছোট একটি অস্ত্রোপচার থেকে সেরে ওঠা এবং এরপর রিয়াল মাদ্রিদে সম্ভাব্য যোগ দেওয়ার ওপর।

হ্যারি কেইন: ২০২৫-২৬ মৌসুমে বুন্দেসলিগায় যেমন তাণ্ডব চালিয়েছিলেন, বিশ্বকাপে সেভাবে জ্বলে উঠতে না পারলেও ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন এখনও ব্যালন ডি’অর পাওয়ার দৌড়ে বাজির দরে সবার চেয়ে এগিয়ে। গত মৌসুমে তাঁর অসাধারণ গোলসংখ্যার কারণেই তিনি এই অবস্থানে রয়েছেন।

ইউরোপের শীর্ষ গোলদাতা হিসেবে গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১টি গোল করেন কেইন। যার ওপর ভর করে বায়ার্ন মিউনিখ লিগ ও কাপের ডাবল জয় করে। এভাবে তিনি নিজের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ট্রফির খাতাও সমৃদ্ধ করেছেন। বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল করে দেশকে চরম লজ্জা থেকে বাঁচানোসহ মোট ছয়টি গোল করেন কেই। যার ওপর ভিত্তি করে ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্য নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।

লামিন ইয়ামাল: ইয়ামাল নিশ্চিতভাবেই তাঁর ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকটি ব্যালন ডি’অর জিতবেন, তবে ২০২৫ সালে রানার্স-আপ হওয়া ১৯ বছর বয়সী এই বিস্ময় বালক হয়তো এই বছরই তাঁর প্রথম ট্রফিটি ঘরে তুলতে পারেন।

ইয়ামাল প্রথম অনূর্ধ্ব-২০ খেলোয়াড় যিনি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বিশ্বকাপ—উভয় প্রতিযোগিতারই ফাইনাল খেলেছেন এবং দুটিতেই জয়ী হয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা হয়তো তাঁর নিজের মানদণ্ড অনুযায়ী কিছুটা কম ছিল, তবে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে হ্যামস্ট্রিংয়ের ইনজুরি বহন করেও স্পেনের টেনে তুলতে সাহায্য করেন।

বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জেতার মৌসুমেও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর ঝুলিতে ছিল ২৪টি গোল এবং ১৮টি অ্যাসিস্ট—একজন তরুণ হিসেবে এটি মোটেও সাধারণ কোনো পরিসংখ্যান নয়। ফলে দৌড়ে তিনি খুব ভালোভাবেই টিকে আছেন।

কিলিয়ান এমবাপে: দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলের শীর্ষপর্যায়ে রাজত্ব করার পরও ২৭ বছর বয়সে এমবাপের ঝুলিতে একটিও ব্যালন ডি’অর নেই—ভাবলেই অবাক লাগে! এবারও তিনি এই দৌড়ে বেশ ভালোভাবেই আছেন। উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে পাওয়া তাঁর ‘গোল্ডেন বুট’ শিরোপাটাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে। টুর্নামেন্টে ১০টি গোল করে তিনি প্রথমে মিরোস্লাভ ক্লোসা এবং পরে লিওনেল মেসিকে টপকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। মেসি ও তিনি—উভয়ের জন্যই বিশ্বকাপের ‘গোল্ডেন বল’ না পাওয়াটা কিছুটা হতাশার ছিল।

লিওনেল মেসি: ব্যালন ডি’অর নির্ধারণে বিশ্বকাপের গুরুত্ব কতটা, এই তালিকায় মেসির উপস্থিতিই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। নিশ্চয়ই এমএলএস-এ ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলার পারফরম্যান্সের কারণে তিনি এই তালিকায় স্থান পাননি! তবে আটবারের এই বিজয়ীকে কৃতিত্ব দিতেই হয়; ৩৯ বছর বয়সেও তিনি প্রমাণ করেছেন যে তাঁর ধার এখনও কমেনি।

মেসির আটটি গোল আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছিল, যেখানে তারা শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে পরাজিত হয়। আর্জেন্টিনা যদি টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিততে পারত, তবে তিনি হয়তো এই তালিকার প্রথম দুইজনের মধ্যেই থাকতেন। শেষ পর্যন্ত, ১০ মাস আগে বিশ্বকাপ জেতার ওপর ভিত্তি করেই তিনি ২০২৩ সালের পুরস্কারটি জিতেছিলেন, যখন তিনি ইতোমধ্যে ইন্টার মিয়ামির খেলোয়াড়।

সর্বশেষ সংবাদ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ইসরায়েলি আগ্রাসন থামিয়েছে: হিজবুল্লাহ প্রধান

হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম মঙ্গলবার লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে মন্তব্য করেছেন, এই আলোচনা লেবাননের...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ