কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় এক পর্যটকের মৃত্যুর পর জেলার সব পয়েন্টে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
ঘটনার পর রোববার প্রশাসন কঠোর অভিযান পরিচালনা করে। এক্সকাভেটর দিয়ে দরিয়ানগর প্যারাসেইলিং পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘ চেষ্টার পর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরিচালিত ‘ফ্রাই এয়ার সি স্পোর্টস’-এর স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্যারাসেইলিংয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, অভিযানে পাঁচ থেকে ছয়টি স্পিডবোটের ইঞ্জিন, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, ছয় থেকে সাতটি জেরিক্যান ভর্তি জ্বালানি এবং প্রয়োজনীয় স্পেয়ার পার্টস জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সব আলামত প্রশাসনের তথ্য ও বিজ্ঞাপন কেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এদিকে, প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় নিহত খুলনার পর্যটক শৌভিক রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতের বোন মেধা মৃত্তিকা রায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, মামলায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রাই এয়ার সি স্পোর্টস’-এর পরিচালক মো. ফরিদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের আটকে অভিযান চলছে এবং মামলাটির তদন্ত করবে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
উল্লেখ্য, বৈরী আবহাওয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গত শনিবার (১ আগস্ট) কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিং চালানো হচ্ছিল। এ সময় সাগরে পড়ে প্রাণ হারান খুলনার পর্যটক শৌভিক রায়। এরপর নিরাপত্তাহীন এই বিনোদন কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটকের ওজন, বাতাসের গতি এবং আবহাওয়ার অবস্থা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন।

