spot_img

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির হামলায় নিহত ৮

অবশ্যই পরুন

ইরাকে একযোগে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। এই যৌথ হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন ও রিয়াদ।

জর্ডানে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আইআরজিসির এই বিবৃতির আগেই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বাহিনীর ওপর চালানো একটি অতর্কিত হামলা মার্কিন সেনারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম বিস্তারিত জানিয়ে বলে, ‘ইস্টার্ন টাইম বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে ইরান থেকে আইআরজিসি বাহিনী একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করে। এটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর একটি অতর্কিত হামলার চেষ্টা ছিল।’

সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে হামলার সুনির্দিষ্ট কোনো স্থানের নাম বা লক্ষ্যবস্তুর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে তারা নিশ্চিত করেছে, হামলায় ব্যবহৃত ইরানের ছোড়া সব কটি মিসাইল মাঝপথেই সফলভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে নিজেদের বাহিনীর ওপর এমন অতর্কিত হামলার কড়া জবাব দিতে বিন্দুমাত্র দেরি করেনি ওয়াশিংটন। বুধবার ভোরেই মার্কিন ও সৌদি বাহিনী যৌথ ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একাধিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির ওই আকস্মিক হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন এবং একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পিএমএফ এই হামলাকে একটি ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক উসকানি’, ইরাকের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সরাসরি আঘাত বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব জানিয়েছে, মার্কিন সেনা ও সৌদির স্পর্শকাতর তেল স্থাপনাগুলোতে চালানো আগের হামলাগুলোর কড়া জবাব দিতেই এই যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য শিয়া মিলিশিয়াদের নিয়ে মূলত পিএমএফ গঠিত হয়। আইএসআইএস-কে পরাজিত করতে বড় ভূমিকা রাখায় ২০১৬ সালে পিএমএফ-কে ইরাকের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এই জোটের ভেতরে থাকা বেশ কিছু শক্তিশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের আইআরজিসি-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজার হামাস এবং ইয়েমেনের হুতিদের মতো পিএমএফ-ও এই অঞ্চলে তেহরানের ‘অ্যাক্সিস অব রেজিসট্যান্স’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মূলত এ কারণেই তারা দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

সর্বশেষ সংবাদ

সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় শিল্পখাতে গ্যাস সংকট, সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারনে শিল্পখাতে গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে, তবে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ