spot_img

রক্ত দেয়ার প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কী কী ঘটে শরীরে?

অবশ্যই পরুন

রক্তদান একটি মানবিক ও মহৎ কাজ। এই উদ্যোগে প্রতি বছর লাখো লাখো মানুষের জীবন রক্ষা পায়। অস্ত্রোপচার, দুর্ঘটনা বা কিছু শারীরিক সমস্যায় রক্তের বিশেষ উপাদানের প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে রক্তের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু অন্যজনকে রক্ত দেয়া নিয়ে অনেকের মনেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যারা প্রথমবার রক্তদান করছেন তারা।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রক্তের প্রয়োজন হলে এর বিকল্প নেই। রক্তদানের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং রক্ত দেয়ার পর শরীর এর সঙ্গে মানিয়ে নেয়া শুরু করে। তবে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় শরীরে ঠিক কী কী পরিবর্তন ঘটে, সেটি সম্পর্কে জানার আগ্রহ অনেকের। এ ব্যাপারে কৈলাশ দীপক হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রজত কান্ত জাইন বলেন, শরীর কত দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, তার অনন্য উদাহরণ হচ্ছে রক্তদান।

এ চিকিৎসক বলেন, রক্তদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শরীর তার হারিয়ে ফেলা তরল ও রক্তকণিকা প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু করে। অধিকাংশ সুস্থ রক্তদাতা রক্তদানের একদিনের মধ্যে স্বাভাবিক বোধ করেন। তবে শুরুতে কিছু রক্তদাতার ক্ষেত্রে হালকা ক্লান্তি বা মাথা ঘোরার মতো অনুভূতি হয়ে থাকে। এ অবস্থায় পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার এবং বিশ্রাম নেয়া হলে প্রভাবগুলো কাটিয়ে ওঠা যায়।

প্রথম ২৪ ঘণ্টায় প্লাজমার দ্রুত ঘাটতি পূরণ ও রক্তকণিকার পুনরুদ্ধার:
রক্তদানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় রক্তের তরল অংশ বা প্লাজমা দ্রুত পুনর্গঠিত হয়। এ ব্যাপারে ডা. রজত ব্যাখ্যা করে বলেন, শরীরের রক্ত সঞ্চালন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখার জন্য আশপাশের টিস্যু বা কলা থেকে তরল উপাদান রক্তপ্রবাহে চলে যায়, যা রক্তের সামগ্রিক আয়তন ঠিক রাখে। আবার লিম্ফ্যাটিক বা লসিকা তন্ত্র শরীরে জমা হওয়া তরল ও প্রোটিনকে ফের রক্তে ফিরিয়ে দেয়। এই কাজে হরমোনের কার্যপ্রক্রিয়াও সহায়তা করে থাকে।

কিডনি শরীরে পানি ধরে রাখে এবং মস্তিষ্ক তৃষ্ণাবোধ করায়, যা রক্তদাতাকে তরল জাতীয় খাবার বা পানি পানে আগ্রহী করে। লিভার ধীর গতিতে অ্যালবুমিনের মতো প্লাজমা প্রোটিন সৃষ্টি করে। কিন্তু এই প্রোটিনগুলো পরিপূর্ণভাবে তৈরি হতে ২৪ ঘণ্টার একটু বেশি সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। যা রক্তনালীর মধ্যকার রক্তের আয়তন বজায় রাখে।

প্লাজমা দ্রুত পুনরুদ্ধার হলেও লোহিত রক্তকণিকা পরিপূর্ণ তৈরি হতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনুচক্রিকা ও শ্বেত রক্তকণিকা দ্রুত সাড়া দেয়- অস্থিমজ্জা দ্রুত নতুন কণিকা তৈরি করা শুরু করে এবং মাত্র কয়েকদিন থেকে শুরু করে এক সপ্তাহের মধ্যে এসব আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এ কারণে রক্তদাতারা রক্ত দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিরাপদে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

সাময়িক ক্লান্তি ও মাথা ঘোরা:
রক্ত দেয়ার পর এর আয়তন সাময়িক কমে যাওয়া এবং ভ্যাসোভ্যাগাল রিফ্লেক্সের কারণে কখনো কখনো কিছু রক্তদাতা মাথা হালকা অনুভব করেন বা মাথা ঘুরতে পারে। ডা. রজত বলেন, ভ্যাসাভ্যাগাল প্রতিক্রিয়ায় ভেগাস স্নায়ু হৃদস্পন্দনের গতি হ্রাস করতে পারে এবং রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করে। ফলে সাময়িক মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ হালকা কমে যায়। তরুণরা প্রথমবার রক্তদান করলে যদি শারীরিক গঠন ছোট হয়, তাদের মধ্যে এমনটা হওয়ার প্রবণতা থাকে।

অন্যসব কারণের মধ্যে রয়েছে শরীরে পানির ঘাটতি, খাবার না খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং স্বাভাবিকভাবে রক্তচাপ কম থাকা। পানি পান করা, হালকা খাবার খাওয়া বিশ্রামের মতো কিছু পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হলেই বড় কোনো সমস্যা দেখা যায় না।

শরীরের সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া:
রক্ত দেয়ার প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শরীর একটি জটিল ও সমন্বিত পুনরুদ্ধার কাজ করে থাকে। প্লাজমার পরিমাণ স্বাভাবিক হয়, অনুচক্রিকা ও শ্বেত রক্তকণিকা আবার আগের স্বাভাবিক অবস্থা ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করে। হরমোনের কার্যক্রম রক্ত সঞ্চালন ও তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে। এরপর পরদিন বা পরবর্তী সময়গুলোয় আয়রনযুক্ত খাবার ও সঠিক পুষ্টির মাধ্যমে লোহিত রক্তকণিকাগুলো ধীরগতিতে ফের তৈরি হয়। হৃৎপিণ্ড, কিডনি, লিভার, অস্থিমজ্জা, স্নায়ুতন্ত্র ও লসিকা নন্ত্রের সম্মিলিত প্রচেষ্টা রক্তদাতাকে নিরাপদে সুস্থ করতে সহায়তা করে।

সর্বশেষ সংবাদ

গ্রামপর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, চলতি বছরে গ্রামপর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। আর এটিই প্রধানমন্ত্রীর...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ