যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটকে থাকা বা জব্দ করা ইরানের নিজস্ব তহবিলের একটি অংশ ব্যবহার করে মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য কেনার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। কেনা এসব গম, সয়াবিন ও ভুট্টা পরে ইরানেই পাঠানো হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগকে আমেরিকার কৃষিখাতের জন্য একটি ‘নতুন বাজার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান বর্তমানে তীব্র খাদ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর এই সংকট কাটাতে ইরানেরই জব্দ করা অর্থের একটি অংশ ব্যয়ের মাধ্যমে এই অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমাদের (কৃষকদের) জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি বাজার তৈরি হতে যাচ্ছে, যার নাম হলো মনোরম দেশ ইরান। এটি অত্যন্ত সুন্দর একটি জায়গা। কেউ কি সেখানে বেড়াতে যেতে চান?
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে আরও যোগ করেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান এখন মারাত্মক খাদ্য সংকটে ভুগছে। আমরা তাদের আটকে থাকা অর্থের কিছু অংশ নিয়ে তা মার্কিন শস্য কেনায় ব্যয় করব। এর মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে গম, সয়াবিন ও ভুট্টা কেনা হবে। এই শস্য ক্রয়ের প্রক্রিয়াটি খুব শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে এবং এটি বেশ বড় আকারের একটি বাণিজ্যিক তৎপরতা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে ট্রাম্পের এমন ঘোষণা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে জব্দ করা অর্থ দিয়ে মার্কিন কৃষকদের লাভবান করা, অন্যদিকে খাদ্য সহায়তার নামে ইরানের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করাই এই কৌশলের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

