ইরানে বিদেশি শক্তির ইন্ধনে অভ্যুত্থান চেষ্টা ও সশস্ত্র বিদ্রোহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ পরিচালিত সংবাদমাধ্যম ‘মিজান অনলাইন’।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মিজান অনলাইন জানায়, সরকারবিরোধী আন্দোলন ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জাভাদ জামানি এবং আবুলফজল সায়েদি-র মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সহযোগিতায় সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ইরানি আদালত তাদের বিরুদ্ধে ‘মুহারেবা’ (সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ) এবং ‘পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি’সহ গুরুতর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের আড়ালে বিদেশি স্বার্থে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় যুক্ত ছিলেন এবং দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করেছেন।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে গুপ্তচরবৃত্তি, নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে বিচারিক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানে মৃত্যুদণ্ডের উচ্চ হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের তথ্যমতে, চীন-এর পর বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ইরান।
সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকে দেশটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে দণ্ডিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স

