জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তার মুখপাত্রের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, ওই চুক্তিতে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালীর পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পরবর্তী আলোচনার জন্য একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
মহাসচিব আলোচনায় সহায়তার জন্য পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক দেশের ভূমিকার প্রতি ‘গভীর কৃতজ্ঞতা’ প্রকাশ করেছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এই অগ্রগতিকে কাজে লাগাবে এবং চূড়ান্ত সমাধানের দিকে ‘আরও জোরালোভাবে প্রচেষ্টা’ চালাবে। তিনি আরও পুনর্ব্যক্ত করেন যে জাতিসংঘ একটি ‘টেকসই ও সর্বাত্মক শান্তি’ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
এই সংঘাত শুরু হয় ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে একাধিক হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত দেশগুলোর ওপর হামলা করে।
এই লড়াইয়ের ফলে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যায়—যা বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের প্রধান সমুদ্রপথ।
এপ্রিল মাসে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাঝেমধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে, যার মধ্যে এই সপ্তাহে দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলাও অন্তর্ভুক্ত।
মহাসচিব এন্টনিও গুতেরেস বৈরুতের ওপর ইসরায়েলি বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানান। পৃথক এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তির পথে এগোনোর সম্ভাব্য চুক্তির সময় এই হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি সতর্ক করেন যে এই সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ‘ধ্বংসাত্মক প্রভাব’ ফেলছে এবং সংকটময় এই মুহূর্তে সব পক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান প্রচেষ্টার সফলতার আশাও ব্যক্ত করেন।
লেবাননের এই সংকট বৃহত্তর আঞ্চলিক অস্থিরতার অংশ। এটি শুরু হয় ২ মার্চ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বোমা হামলা শুরু করার কয়েকদিন পরই, যার ফলে লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়।
সূত্র: জাতিসংঘ

