spot_img

শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে, ভ্যাঙ্কুভারে গড়লেন ইতিহাস

অবশ্যই পরুন

তুরস্কের বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ২-০ গোলের জয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। ম্যাচের প্রথম গোলটি করে তিনি শুধু দলকে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেননি, বরং বিশ্বকাপের মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন।

তবে ইরানকুন্ডার এই সাফল্যের গল্প কোনো সাধারণ ফুটবলারের গল্প নয়। শরণার্থী শিবির থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের আলো ঝলমলে মঞ্চে পৌঁছানোর পথটা ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য উদাহরণ।

২০০৬ সালে তানজানিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন ইরানকুন্ডা। তার বাবা-মা মূলত বুরুন্ডির নাগরিক। গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে তারা নিজ দেশ ছেড়ে তানজানিয়ায় আশ্রয় নেন। পরে পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান ইরানকুন্ডা, যেখানে ফুটবলই হয়ে ওঠে তার নতুন জীবনের ভিত্তি।

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের যুব দলে খেলেই তিনি প্রথম নজর কাড়েন। অসাধারণ গতি, শক্তিশালী শারীরিক সক্ষমতা এবং পরিণত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা তাকে দ্রুত দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় তরুণ ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ক্লাবটির সিনিয়র দলের হয়ে তিনি ১৬ গোল করার পাশাপাশি আরও আটটি গোলে সহায়তা করেন, যা ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন তিনি। যদিও মূল দলের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ পাননি, তবুও হ্যারি কেইনের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলন ও সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণের পথে অবশ্য তাকে কঠিন একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। নিয়মিত খেলার সুযোগের অভাবে বায়ার্ন ছেড়ে নতুন ঠিকানা খুঁজতে বাধ্য হন তিনি। সুইজারল্যান্ডের গ্রাসহপার ক্লাবে ধারে খেলার পর শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ওয়াটফোর্ডে যোগ দেন, যাতে নিয়মিত মাঠে থেকে নিজের উন্নতি অব্যাহত রাখতে পারেন।

দলবদলের পর এক সাক্ষাৎকারে ইরানকুন্ডা বলেছিলেন, “এটি সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। তবে আমার প্রধান লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা। নিয়মিত ম্যাচ খেলার প্রয়োজন ছিল, আর সেই সুযোগ আমাকে খুঁজে নিতে হয়েছে।”

তার সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অস্ট্রেলিয়া দলে ডাক পাওয়ার পর দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচেই ফিলিস্তিনের বিপক্ষে গোল করে তিনি জাতীয় দলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

ভ্যাঙ্কুভারে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় লিখেছেন। ম্যাচের ২৭তম মিনিটে পল ওকোন-ইঙ্গস্টলারের লম্বা পাস বাম প্রান্তে পেয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকে পড়েন ইরানকুন্ডা। এরপর ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। সেই গোলের মাধ্যমে ২০ বছর ১২৫ দিন বয়সে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়ে নেন এই তরুণ তারকা।

সর্বশেষ সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না পারা সোমালি রেফারিকে বিশ্বকাপের পুরো ফি’ই দেবে ফিফা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পেলেও বিশ্বকাপের পুরো পারিশ্রমিক পাচ্ছেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতান। বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ