প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া। দ্বিতীয়ার্ধে উল্টো গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে হুয়াং ইন-বমের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং বদলি নামা ওহ হিয়ুন-গিউর শেষ মুহূর্তের জাদুতে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে বিশ্বকাপে শুভসূচনা করল এশিয়ান পরাশক্তিরা।
শুক্রবার (১২ জুন) মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দক্ষিণ কোরিয়া। ১২ মিনিটে গোল করার বড় সুযোগ পেয়েছিলেন অধিনায়ক সন হিয়ুং-মিন। জে-সুংয়ের নিখুঁত পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন এই কোরিয়ান তারকা। এর ঠিক দুই মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে জে-সুংয়ের নেওয়া জোরালো শট চমৎকারভাবে রুখে দেন চেকেদের গোলকিপার মাতেই কোভার।
ম্যাচের ৩৮ মিনিটে আবারও একক নৈপুণ্যে চেকেদের বক্সে হানা দেন সন। দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তাঁর নেওয়া বাঁ পায়ের শট বাম পাশের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই চেকেদের বক্সে আক্রমণ শানায় কোরিয়া। চেক রক্ষণভাগে বল পেয়ে ভেতরে ঢুকে এক দারুণ নিচু শট নেন হুয়াং। তবে চেকেদের গোলকিপার মাতেই কোভার প্রথম দফায় ঝাঁপিয়ে পড়ে শটটি রুখে দেন। এরপর ফিরতি বলে শট নিয়ে গোল করার চেষ্টা করেছিলেন লি কাং-ইন। কিন্তু গোলপোস্টের নিচে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কোভার দ্বিতীয় দফাতেও বলটি আটকে দেন।
ম্যাচের ৫৬ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়াকে আবারও গোলবঞ্চিত করেন চেক প্রজাতন্ত্রের গোলকিপার কোভার। মাঝমাঠ থেকে জে-সুংয়ের বাড়ানো এক নিখুঁত পাস চেকেদের রক্ষণভাগ ফাঁকি দিয়ে খুঁজে নেয় অধিনায়ক সন হিয়ুং-মিনকে। বল পায়ে সন বিপজ্জনকভাবে এগিয়ে গেলেও দ্রুততার সঙ্গে লাইন ছেড়ে সামনে চলে আসেন গোলকিপার কোভার। সনের নেওয়া শট নিজের শরীর দিয়ে দারুণভাবে ব্লক করে দেন এই চেকেদের বাজপাখি।
৫৯ মিনিটে আকস্মিক গোলে এগিয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র। ডান প্রান্ত থেকে ভ্লাদিমির সুফালের নেওয়া লং থ্রো-ইন কোরিয়ার বক্সে এসে পড়ে। সেখানে শূন্যে লাফিয়ে ওঠেন চেক অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেইচি। কোরিয়ান ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে তাঁর নেওয়া জোরালো হেড সরাসরি জালে জড়ায়।
পিছিয়ে পড়ার মাত্র ৮ মিনিটের মাথায় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দক্ষিণ কোরিয়া। খেলার ৬৭ মিনিটে চেকেদের ডি-বক্সে বল পান ফেইনুর্দ মিডফিল্ডার হুয়াং ইন-বম। তাঁকে রুখতে প্রতিপক্ষের গোলকিপার মাতেই কোভার দ্রুত পজিশন ছেড়ে সামনে ছুটে আসেন। ঠান্ডা মাথায় কোভারের মাথার ওপর দিয়ে আলতো চিপে বল জালে জড়িয়ে দেন এই কোরিয়ান তারকা।
ম্যাচের ৭৭ মিনিটে অল্পের জন্য রক্ষা পায় দক্ষিণ কোরিয়া। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বাম প্রান্তে হ্লোজেক ফাউলের শিকার হলে ফ্রি-কিক পায় চেক প্রজাতন্ত্র। সাদিলেকের নেওয়া চমৎকার ফ্রি-কিক থেকে হেডে কোরিয়ার জালে বল পাঠান তমাস সৌচেক। চেকেদের উল্লাসের মাঝেই লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলেন।
৮০ মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণে ব্যবধান ২-১ করে দক্ষিণ কোরিয়া। মাঝমাঠ থেকে বাতাসে ভাসানো এক নিখুঁত পাস খুঁজে নেয় ডান প্রান্তে থাকা হুয়াং ইন-বমকে। বক্সে তাঁর চমৎকার কাট-ব্যাক থেকে আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়ান বদলি নামা ওহ হিয়ুন-গিউ।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে চেক প্রজাতন্ত্র। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ডি-বক্সে কাছে বল পান সাদিলেক। তাঁর নেওয়া শটে গতি না থাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার গোলকিপার সহজেই বলটি লুফে নেন।

