এক যুগ আগে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চলমান মামলার তদন্তে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির সম্প্রচার লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা।
তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে গত সোমবার তদন্ত সংস্থা একাত্তর টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে একটি চিঠি পাঠায়। তদন্ত সংস্থার সহ-সমন্বয়ক মুহম্মদ শহীদুল্যাহ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠির সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার একটি আবেদনও সংযুক্ত করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে। এই তদন্তের অংশ হিসেবে একাত্তর টিভির সরকার প্রদত্ত সম্প্রচার লাইসেন্সের অনুলিপি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি চাওয়া হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা ফতেহ মো. ইফতেখারুল আলমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একাত্তর টিভির বারিধারা কার্যালয়ের সিইওর কাছে চিঠিটি পাঠানো হয়। তদন্ত সংস্থা বিষয়টিকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে।
এর আগে ৮ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, মোজাম্মেল হক বাবু এবং ফারজানা রূপাকে একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন নির্ধারণ করা হয়।
চলতি বছরের ১৪ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দীপু মনি, মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রূপাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার অন্যান্য গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, শাহরিয়ার কবির, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক এবং সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম।
অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ এবং ইমরান এইচ সরকার মামলায় পলাতক হিসেবে উল্লেখ রয়েছেন।
প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে অন্তত ৫৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য তদন্তকারীরা পেয়েছেন এবং নিহতদের পরিচয়ও শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৫ মে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে হেফাজতে ইসলাম মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে। ওই কর্মসূচিকে ঘিরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে সমাবেশকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর প্রতিবেদনে ওই অভিযানে ৬১ জন নিহত হওয়ার দাবি করা হলেও, তৎকালীন পুলিশের ভাষ্য ছিল অভিযানে কেউ নিহত হয়নি; বরং দিনব্যাপী সংঘর্ষে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নতুন করে অভিযোগ জমা পড়ে। পরে এই ঘটনায় একাধিক মামলা ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।

