নাইজেরিয়াতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মিয়া মো. মাইনুল কবির লাইবেরিয়ার রাষ্ট্রপতি জোসেফ বোয়াকাই-এর নিকট লাইবেরিয়াতে বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন।
সম্প্রতি লাইবেরিয়াতে দেশটির রাষ্ট্রপতির কাছে রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ করার তথ্য এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে নাইজেরিয়ার বাংলাদেশ হাই কমিশন।
হাই কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরিচয়পত্র পেশ শেষে রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এক একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। তিনি বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণের পক্ষ থেকে লাইবেরিয়ার জনগণ ও সরকারের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। লাইবেরিয়াতে বাংলাদেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে গ্রহণ করার জন্য তিনি রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এবং সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা, বিশেষ করে আফ্রিকার দেশসমূহের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত যুদ্ধবিধ্বস্ত লাইবেরিয়া পুনর্গঠনে, বিশেষত মেডিকেল এবং অবকাঠামো খাত নির্মাণে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা বাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
তিনি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রপ্তানি পণ্য, বিশেষত তৈরি পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যালস, পাটজাত দ্রব্য, তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়ে আলোকপাত করেন এবং লাইবেরিয়াতে সেসব পণ্যসমূহের রপ্তানি বৃদ্ধিতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
কৃষি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি লাইবেরিয়াতে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং-এর উদ্যোগের প্রস্তাবনা পেশ করেন। তিনি বিশ্ব ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ এবং বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় গ্লোবাল সাউথের দেশসমূহের একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি রাষ্ট্রপতিকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
লাইবেরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা ব্যক্ত করেন। লাইবেরিয়ায় বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা বাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আলোচ্য বিষয়গুলো তার সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে উল্লেখ করেন এবং রাষ্ট্রদূতকে তার দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
একান্ত বৈঠকে লাইবেরিয়ার ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইথেল ডেভিস এবং রাষ্ট্রপতি ভবনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

