দক্ষিণ ইরানে মার্কিন আগ্রাসনের পর যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এক বিবৃতিতে তারা জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছে।
আইআরজিসি শত্রুদের সতর্ক করে বলেছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন বিনা জবাবে থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বান্দর আব্বাসে হামলা চালানোর পর শত্রুদের উদ্দেশে এই কঠোর সতর্কবার্তা জারি করলো আইআরজিসি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বান্দর আব্বাস বিমানবন্দরের উপকণ্ঠে একটি স্থানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আকাশপথে হামলার পর, আইআরজিসি নতুন করে হামলা চালিয়ে সেই মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে।
আইআরজিসি বলেছে, “এই প্রতিক্রিয়া শত্রুর জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা যে, আগ্রাসনের কাজ কোনোভাবেই জবাবহীন থাকবে না।”
এই এলিট সামরিক বাহিনী আরও সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে শত্রু যদি আবার কোনো আগ্রাসন চালায়, তাহলে আরও নির্ণায়ক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।
এছাড়া তারা জানায়, আইআরজিসির যেকোনো প্রতিক্রিয়ার ফলে যে পরিণতি ঘটবে তার দায় সম্পূর্ণভাবে আগ্রাসনকারীর।
বিবৃতিটি এমন সময়ে এসেছে যখন বৃহস্পতিবার আইআরজিসির নৌবাহিনী একটি মার্কিন ট্যাঙ্কারকে ফিরে যেতে বাধ্য করে। ট্যাঙ্কারটি ইরানের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে অবৈধভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল।
তাসনিম নিউজ এসেন্সি জানায়, “আইআরজিসি নৌবাহিনীর দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়ার পর, যার মধ্যে জাহাজটির দিকে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়, ট্যাঙ্কারটি থেমে গিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।”
ইরান ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার সর্বশেষ বিনা উসকানির হামলার পর, যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, শত্রুদের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর অবৈধ অবরোধ ঘোষণা করলে এবং পূর্বে তারই ঘোষিত যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতায় নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়।
আইআরজিসির নৌবাহিনী পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি সম্পর্কিত ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনেয়ির “ঐতিহাসিক” নির্দেশ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে।
সূত্র: প্রেস টিভি

