তেহরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ইরানকে পাঁচটি প্রধান শর্ত দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে অন্যতম শর্ত হলো, ইরান মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখতে পারবে। আজ রোববার (১৭ মে) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের দেওয়া বাকি চারটি শর্তের মধ্যে রয়েছে- চলমান সংঘাত বা পূর্ববর্তী কোনো ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দেবে না; ইরানের কাছে থাকা ৪০০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে এবং বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদের ২৫ শতাংশও অবমুক্ত করা হবে না। এ ছাড়া সব ক্ষেত্রে আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন এই শর্তের বিপরীতে তেহরানও নিজেদের মূল দাবিগুলো পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব অঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্রের অবসান, ইরানের ওপর থেকে যাবতীয় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিশ্বজুড়ে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া এবং যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দাবি করেছে দেশটি।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। পাল্টা জবাবে তেহরানও ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালায় এবং একপর্যায়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুপক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা থেকে কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় উভয় দেশ। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে দিলেও স্থায়ী সমাধানের পথ এখনো অনেকটাই অনিশ্চিত।

