ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতপার্থক্য বাড়লেও ন্যাটো জোট অটুট রাখতে ইউরোপ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস।
সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মের্ৎস বলেন, ‘আমরা ভবিষ্যতের জন্য এই জোটকে টিকিয়ে রাখতে সত্যিই আগ্রহী।’
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে জার্মানি ও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ সমর্থন ‘না’ দেওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইউরোপের দূরত্ব বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এ নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ইউরোপ এখনো আশাবাদী বলে জানান জার্মান চ্যান্সেলর।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানি কিছু বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। আমরা সবাই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি। তবে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য একটাই—এই সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।’
মের্ৎস আরও বলেন, ‘এই লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ—উভয়েরই লক্ষ্য একই।’
এর আগে, জার্মান চ্যান্সেলর বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্পষ্ট ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ দেখতে পাচ্ছেন না তিনি।
গত মাসের শেষ সপ্তাহে, উত্তর রাইন-ওয়েস্টফালিয়া অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপকালে তিনি মন্তব্য করেন। এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পুরো একটি মার্কিন জাতিকে ইরানি নেতৃত্বের মাধ্যমে অপমানিত করা হচ্ছে।’ রয়টার্সের বরাতে তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ট্রাম্পের নেতৃত্বে এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসবে, তা স্পষ্ট নয়।
জার্মান চ্যান্সেলর মন্তব্য করেন, ইরান আলোচনায় অত্যন্ত কৌশলী ভূমিকা পালন করছে এবং তারা ধারণার চেয়েও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন-ইসরায়েলি জোটকে সাহায্য করতে ইরান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে ন্যাটোকে আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাহায্য না করলে, সামরিক জোট থেকে বের হবারও ‘হুমকি’ দেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট। তবে, তার এমন হুমকি-ধমকির উত্তরেই জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল এমন মন্তব্য করেন।

