চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের (এনডিআরসি) এআই স্টার্টআপ ম্যানাসকে মেটার অধিগ্রহণের প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিকভাবে ভেটো দিয়েছে, যার ফলে ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের এই চুক্তিটি আপাতত স্থগিত রয়েছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এআই প্রযুক্তি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে চীন এআই স্টার্টআপ ম্যানাসের বিদেশি অধিগ্রহণ অনুমোদন আটকে দিয়েছে। যদিও সংস্থাটি সরাসরি মেটার নাম উল্লেখ করেনি।
এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে চীনা এআই প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং মেধাস্বত্ব বিদেশে চলে যাওয়া নিয়ে বেইজিং উদ্বিগ্ন। একই সময়ে, ওয়াশিংটনও চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর উন্নত চিপ সরবরাহ সীমিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ম্যানাস যার শিকড় চীনে হলেও বর্তমানে সিঙ্গাপুরভিত্তিক, এমন এআই এজেন্ট তৈরি করে যা ন্যূনতম মানব হস্তক্ষেপে জটিল কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম। মেটা গত ডিসেম্বর মাসে এই প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণের ঘোষণা দেয়, যা তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এআই সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হওয়ার কথা ছিল।
অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক মেটা দাবি করেছে, তাদের এই লেনদেন সম্পূর্ণরূপে প্রযোজ্য আইন মেনেই করা হয়েছে এবং তারা বিষয়টির যথাযথ সমাধান আশা করছে।
দীর্ঘদিনের নজরদারি
গত কয়েক মাস ধরেই চীনা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো মেটার এই অধিগ্রহণ নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছিল। ম্যানাস নিজেকে অন্যান্য এআই ডেভেলপারদের থেকে আলাদা হিসেবে তুলে ধরেছে “পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়” এজেন্ট প্রযুক্তির দাবি করে।
প্রচলিত চ্যাটবটের মতো বারবার নির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজন না হয়ে, ম্যানাস-এর প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী নিজেই পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়।
প্রযুক্তি খাতে উত্তেজনা
বর্তমানে সিঙ্গাপুরভিত্তিক হলেও ম্যানাস-এর প্রতিষ্ঠা চীনে, ফলে এটি দেশটির কঠোর প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় পড়ে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রযুক্তি বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে চীনের কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।
এ ধরনের নিয়মের কারণে আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে বাইটড্যান্স-এর মালিকানাধীন টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও চীনের অনুমোদন প্রয়োজন হয়েছিল।
মার্চ মাসে খবর আসে, ম্যানাসের দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতাকে দেশ ছাড়তে বাধা দেওয়া হয়েছে, মেটার অধিগ্রহণ পর্যালোচনার অংশ হিসেবে।
এদিকে, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন এআই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে, যাতে প্রযুক্তি চুরির মতো “বৃহৎ আকারের কার্যক্রম” প্রতিহত করা যায়। তাদের দাবি, নতুন তথ্য অনুযায়ী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন এআই মডেল নকল করছে।
সূত্র: বিবিসি

