বেতন কম, তাই কাজের প্রতি অনীহা। আর সেই অনীহা থেকেই প্রতিদিন অফিসের আট ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ ঘণ্টাই ঘুমিয়ে কাটাতেন এক নারী কর্মী। চীনের হেনান প্রদেশের শাংকুই শহরে ঘটা এই অদ্ভুত ঘটনাটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারী কর্মীর দাবি-কর্তৃপক্ষ তাকে যে সামান্য বেতন দেয়, তার বিনিময়ে এর চেয়ে বেশি শ্রম দেওয়া সম্ভব নয়। তার মতে, পারিশ্রমিক অনুযায়ী তিনি সেবা দিচ্ছেন এবং কম বেতনে এর চেয়ে ভালো ‘পারফরম্যান্স’ আশা করা অনর্থক।
তবে বিষয়টি এতদিন আড়ালে থাকলেও সামনে আসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায়। ওই কর্মী ঘুম থেকে জেগে তার বসের ডেস্ক থেকে একটি চকলেট খেয়ে ফেলেন। দুর্ভাগ্যবশত, তার বস ‘গ্লুকোপেনিয়া’ বা রক্তে শর্করার স্বল্পতাজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। জরুরি মুহূর্তে ওই চকলেটটি খেতে না পারায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। নিজের জীবনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ বস ওই নারীকে সরাসরি বরখাস্তের হুমকি দেন।
চাকরি হারানোর ভয় থাকলেও ওই কর্মী দমে যাননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিজে থেকে পদত্যাগ করবেন না। বরং কম বেতনে সেবার মান যে এমনই হয়, সেটিই তিনি বসকে বুঝিয়ে দিতে চান। নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তিনি নিজের অবস্থানের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অধিকাংশ মানুষই ওই কর্মীর সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, পারিশ্রমিক নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশ ঘুমিয়ে কাটানো পেশাদারিত্বের চরম পরিপন্থী। অনেকে বসের জীবনের ঝুঁকি তৈরির বিষয়টি উল্লেখ করে একে অপরাধ হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে এমন আচরণ কেবল নৈতিকভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ নয়, বরং কাজের ফাঁকে দীর্ঘ সময় ঘুমানো হৃদরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বেতন ও শ্রমের এই অদ্ভুত লড়াই নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে পুরো চীনজুড়ে।

