সম্প্রতিহাঙ্গেরির রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান পরাজিত হয়েছেন। তার দল ফিদেজ হেরে গেছে বিরোধী তিসা পার্টি-র কাছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন পিটার মাগয়ার।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রেসটিভি-র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। রোববার প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে অরবানের দল পিছিয়ে পড়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক দিক পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অরবানের নেতৃত্বে হাঙ্গেরি ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর ভেতরে ইসরায়েল-এর অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। তার সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। অরবান সরকার একাধিকবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রস্তাব ও নিষেধাজ্ঞা আটকে দিতে ভেটো ব্যবহার করেছে।
ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেল আবিব দেশটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সমর্থন পেয়ে আসছে। তবে মাগয়ার ক্ষমতায় আসায় এই অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরায়েল ইস্যুতে আরও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে পারে।
এই ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও একটি রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে তিনি অরবানকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে সমর্থন জানান এবং হাঙ্গেরির ভোটারদের তার পক্ষে ভোট দিতে আহ্বান করেন। অন্যদিকে, পিটার মাগয়ার যুক্তরাষ্ট্রের এই মন্তব্যকে হাঙ্গেরির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করেন।
অরবানের সরকার ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে মাগয়ার সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফলে হাঙ্গেরি যদি আইসিসির সদস্য থাকে, তাহলে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে বাধ্য হবে। এর মধ্যে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে থাকা পরোয়ানাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে তার হাঙ্গেরি সফরে প্রভাব ফেলতে পারে।

