spot_img

ইউক্রেন রক্ষায় পারমাণবিক অস্ত্র চায় জেলেনস্কি

অবশ্যই পরুন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমিরি জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে হলে পশ্চিমা মিত্রদের হয় কিয়েভকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, নয়তো পারমাণবিক অস্ত্র দিতে হবে। তার মতে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে রক্ষা করার জন্য এর চেয়ে কম কিছু যথেষ্ট নয়।

গত শুক্রবার ফরাসি পত্রিকা লি মনডিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি ইউক্রেনের সমালোচকদের সমালোচনা করেন। তার দাবি, রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের কারণে অনেকে ইউক্রেনের চূড়ান্ত বিজয়ে বিশ্বাস করেন না।

তিনি বলেন, “যখন সবাই বলে ইউক্রেন এই যুদ্ধ জিততে পারবে না, কারণ রাশিয়া একটি পারমাণবিক শক্তি—তখন বলুন তো, ইউক্রেনের কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা থাকা উচিত? কী? ন্যাটো? পারমাণবিক অস্ত্র? তাহলে মানুষের উচিত আমাদের সঙ্গে একইভাবে কথা বলা।”

তবে তিনি স্বীকার করেন, “এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের এই প্রশ্নটি করেনি,” এবং তিনি এটিকে “অবিশ্বাস্য” বলে উল্লেখ করেন যে “রাশিয়ার ব্যাপারে অন্তত একইভাবে কেউ কথা বলছে না।”

এর আগে এই সপ্তাহে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছিলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নির্ভর করছে ইউক্রেনের ওপর—বিশেষ করে ডনবাস অঞ্চলের যেসব অংশ এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে, সেখান থেকে সরে আসার বিষয়টি নিয়ে। ডনবাসসহ আরও দুটি সাবেক ইউক্রেনীয় অঞ্চল ২০২২ সালে গণভোটের মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ভোট দেয়, এবং মস্কো বলেছে, স্থায়ী শান্তির জন্য ইউক্রেনের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জেলেনস্কির বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, তিনি “মিথ্যা” বলেছেন।

রুবিও বলেন, “আমি তাকে এটা বলতে দেখেছি এবং এটা দুঃখজনক, কারণ তিনি জানেন এটা সত্য নয় এবং তাকে এমন কিছু বলা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “যা বলা হয়েছে তা খুবই স্বাভাবিক—যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা নিশ্চয়তা কার্যকর হবে না, কারণ তা হলে আপনি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বেন।”

উল্লেখ্য, জেলেনস্কি একাধিকবার অস্বীকার করেছেন, ইউক্রেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে গত মাসে স্কাই নিউজকে তিনি বলেন, ব্রিটেন ও ফ্রান্স যদি তাকে পারমাণবিক অস্ত্র দিতো, তবে তিনি সানন্দে গ্রহণ করতেন; যদিও তার কাছে এমন কোনো প্রস্তাব আসেনি। এ মন্তব্য তিনি করেছিলেন মস্কোর অভিযোগের জবাবে, যেখানে বলা হয়েছিল লন্ডন ও প্যারিস গোপনে ইউক্রেনকে পারমাণবিক সক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

রাশিয়া বারবার বলেছে, কোনো অবস্থাতেই তারা ইউক্রেনকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না। মস্কোর মতে, ২০২২ সালে সংঘাত শুরুর আগে জেলেনস্কির পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার আগ্রহও এই যুদ্ধ শুরুর একটি কারণ হতে পারে।

সূত্র: আরটি

সর্বশেষ সংবাদ

ইরানে স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে টানা কয়েক সপ্তাহ স্থল হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট রোববার (২৯ মার্চ) এ তথ্য...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ