হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠাতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে সাহায্য চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে অস্ট্রেলিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের সেখানে জাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। সোমবার (১৬ জুন) দেশটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ট্রাম্প রোববার বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল দেশগুলোর দায়িত্ব রয়েছে এই প্রণালি রক্ষা করা, কারণ বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এশিয়ার বাজারগুলো সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৫০ ডলারের ওপরে উঠেছে, আর আঞ্চলিক শেয়ারবাজার বেশিরভাগই দুর্বল ছিল—মধ্যপ্রাচ্যের তেল স্থাপনাগুলোর ঝুঁকি এবং মিত্রদের আরও জড়িত হওয়ার জন্য ট্রাম্পের আহ্বানের কারণে।
ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটনে যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমি চাই এই দেশগুলো এগিয়ে এসে নিজেদের এলাকা রক্ষা করুক, কারণ এটিই তাদের এলাকা—এখান থেকেই তারা তাদের জ্বালানি পায়।”
এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইসি সোমবার বলেন, যুদ্ধ ত্যাগকারী সংবিধানের সীমাবদ্ধতার কারণে তার দেশের মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ পাহারা দেওয়ার জন্য নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
তিনি পার্লামেন্টে বলেন, “জাহাজ পাহারা দেওয়ার জন্য নৌবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। জাপান স্বাধীনভাবে কী করতে পারে এবং আইনি কাঠামোর মধ্যে কী করা সম্ভব—তা আমরা পর্যালোচনা করছি।”
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক গুরুত্বপূর্ণ মিত্র অস্ট্রেলিয়াও জানিয়েছে, তাদের এমন কোনো অনুরোধ করা হয়নি এবং তারা প্রণালি পুনরায় চালু করতে নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠাবে না।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টোনি আলবানেসের মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাথেরিন কিং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা জানি বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমাদের কাছে এমন কোনো অনুরোধ আসেনি এবং আমরা এতে অংশও নিচ্ছি না।”
সূত্র: রয়টার্স

