পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি অত্যাধুনিক বহুমাত্রিক রকেট লঞ্চার সিস্টেমের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করার একদিন পর রোববার (১৫ মার্চ) এই পরীক্ষা চালানো হয়।
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা বসন্তকালীন যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করার পরই উত্তর কোরিয়া এই পরীক্ষা চালায়। মহড়াটি আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, গতকাল শনিবার মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেমের (এমআরএলএস) পরীক্ষা তদারকি করেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।
কেসিএনএ জানায়, কিম বলেন এই মহড়া পিয়ংইয়ংয়ের শত্রুদের মধ্যে ‘অস্থিরতা’ সৃষ্টি করেছে এবং কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসাত্মক শক্তি সম্পর্কে ‘গভীর ভাবনার জন্ম’ দিয়েছে। এসব অস্ত্রের আঘাত হানার পাল্লা ৪২০ কিলোমিটার (প্রায় ২৬০ মাইল)।
রোববার কেসিএনএ জানিয়েছে, রকেটগুলো ৩৬০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে কোরিয়ার পূর্ব সাগরে একটি দ্বীপ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।
এমআরএলএসকে ‘খুব মারাত্মক তবে আকর্ষণীয় অস্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করে এর প্রশংসা করেছেন কিম।
আরেকটি ছবিতে কিম জং উনকে তার মেয়ে জু আয়ে-এর সঙ্গে দূর থেকে উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। তাদের পাশে একজন সামরিক কর্মকর্তাও ছিলেন।
জু আয়ে-কে দীর্ঘদিন ধরেই দেশের সম্ভাব্য পরবর্তী শাসক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক উচ্চপর্যায়ের প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি সেই ধারণাকে আরও জোরালো করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দাপ্তরিক বাসভবন ও কার্যালয় উৎক্ষেপণগুলোকে ‘জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনকারী প্ররোচনা’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে এবং পিয়ংইয়াংকে তৎক্ষণাত এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।’
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দাপ্তরিক বাসভবন ও কার্যালয় ‘ব্লু হাউস’ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
একে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন ও ‘উস্কানি’ হিসেবে অভিহিত করে পিয়ংইয়ংকে অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক জানান যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে বৈঠক করাকে ‘ইতিবাচক’ মনে করছেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা ঘটল।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করতে চাইছে। চলতি মাসের শেষের দিকে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময় একটি সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
দীর্ঘদিন এসব প্রস্তাব এড়িয়ে চললেও কিম সম্প্রতি বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অবস্থান মেনে নেয়, তবে দুই দেশ ‘একসঙ্গে কাজ’ করতে পারে।
সূত্র: দ্য হিন্দু

