spot_img

যে লক্ষণ বলে দেবে চোখের দৃষ্টি নীরবে কমছে

অবশ্যই পরুন

দৃষ্টি হারানো মানেই হঠাৎ অন্ধকার নেমে আসা এমনটা আমরা ভাবতে ভালোবাসি। কিন্তু বাস্তবটা ভিন্ন। চোখের সমস্যা বেশিরভাগ সময় ধীরে ধীরে বাড়ে। হালকা ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা, রাতে গাড়ি চালাতে অস্বস্তি এসবকে আমরা ক্লান্তি, ঘুমের অভাব বা অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের দোষ দিই। অথচ এই ছোট ছোট পরিবর্তনই হতে পারে বড় বিপদের আগাম বার্তা।

চোখের চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো লক্ষণ চিনতে পারলে স্থায়ী ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। সম্প্রতি ডা. রজত কাপুর, সিনিয়র কনসালট্যান্ট অপথ্যালমোলজিস্ট, ডা. আগরওয়ালস আই হাসপাতাল, দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের চারটি নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তার ভাষায়, দৃষ্টিশক্তি একদিনে হারায় না; ছোট ছোট উপসর্গ দিয়ে শুরু হয়, যেগুলো আমরা প্রায়ই গুরুত্ব দিই না। চলুন জেনে নে য়া যাক কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করা উচিত নয়।

১. বারবার মাথাব্যথা বা চোখে চাপ অনুভব

বই পড়া বা দীর্ঘ সময় মোবাইল-কম্পিউটার ব্যবহারের পর মাথাব্যথা হচ্ছে? একে শুধু ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাবেন না।
ঠিকমতো চশমার পাওয়ার না থাকলে বা রিফ্র্যাকটিভ এরর থাকলে এমন হতে পারে। চোখের ফোকাসিং সমস্যাও দায়ী হতে পারে। কখনও কখনও ঘন ঘন মাথাব্যথা স্নায়বিক জটিলতার ইঙ্গিতও দেয়। একই সমস্যা বারবার হলে অবশ্যই চোখ পরীক্ষা করান।

২. রাতে গাড়ি চালাতে সমস্যা

অনেকে বলেন, “দিনে ঠিকই দেখি, কিন্তু রাতে আলো ঝাপসা লাগে।” নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হোন—

  • হেডলাইটের আলোতে তীব্র ঝলকানি
  • আলো ঘিরে হ্যালো দেখা
  • অন্ধকারে পরিষ্কার দেখতে অসুবিধা

এগুলো ছানি, পাওয়ার পরিবর্তন বা রেটিনার সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।

৩. মাঝেমধ্যে ঝাপসা দেখা

কখনও পরিষ্কার, কখনও ঝাপসা এমন হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিন। রক্তে শর্করার ওঠানামা লেন্সে প্রভাব ফেলতে পারে।বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। অস্থায়ী ভেবে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৪. ডাবল ভিশন বা চোখ সরে যাওয়া

হঠাৎ কখনও দুটি ছবি দেখা যাচ্ছে? ফোকাস করতে কষ্ট হচ্ছে? এই সমস্যাগুলো মূলত চোখের পেশির ভারসাম্যহীনতা ও স্নায়বিক জটিলতার লক্ষণ।  এ ধরনের সমস্যা দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি, কারণ এর পেছনে গুরুতর কারণও থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইল খুব কাছে ধরে ব্যবহার করা এখন মায়োপিয়া বা নিকটদৃষ্টির সমস্যা বাড়ার বড় কারণ। পাশাপাশি গ্লুকোমা বা কিছু রেটিনার রোগ শুরুতে তেমন লক্ষণ দেখায় না চুপিসারে দৃষ্টি নষ্ট করে।

চোখ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয়গুলোর একটি। অথচ আমরা অনেক সময় এর ছোট ছোট সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করি। মনে রাখবেন দৃষ্টি হারানো সবসময় নাটকীয়ভাবে হয় না, বরং নীরবে, ধীরে ধীরে ঘটে। বারবার মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা বা ডাবল ভিশন এসবকে হালকা করে দেখবেন না। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা স্থায়ী ক্ষতি রোধ করতে পারে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস 

সর্বশেষ সংবাদ

প্রতিবছর ভর্তি ফি নেওয়ার প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রতিবছর ভর্তি ফি নেওয়া যাবে না-আদালতের এমন আদেশ অমান্য করে ভিন্ন...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ