spot_img

শুল্ক বাতিলের রায়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প; বিচারপতিদের ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ’

অবশ্যই পরুন

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ছয় বিচারপতির ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আরোপিত পাল্টা বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেওয়ায় ওই বিচারপতিদের নজিরবহিীন ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন তিনি।

শুক্রবারের এ রায়কে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বিচারপতিদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মত দেওয়া ওই বিচারপতিদের ‘চরমভাবে লজ্জিত’ হওয়া উচিত। ‘সঠিক কাজটি করার’ মতো সাহস তাদের নেই।

ট্রাম্পের এ আক্রমণ মার্কিন বিচার বিভাগের ওপর নজিরবিহীন আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের এ রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সাধারণত রাজনৈতিক রীতিনীতির তোয়াক্কা করেন না। এবারের আদালতের ওপর তার আক্রমণ নজিরবিহীন।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কয়েক ঘণ্টা পর হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আদালতের নির্দিষ্ট কিছু সদস্যের ওপর আমি হতাশ। আমাদের দেশের জন্য সঠিক কাজটি করার সাহস না থাকায় তাদের প্রতি আমি একেবারেই হতাশ।’

প্রেসিডেন্টদের ঢালাওভাবে শুল্ক আরোপের কোনো সহজাত ক্ষমতা নেই, আদালতের এমন পর্যবেক্ষণের ওপর ট্রাম্প কোনো রাখঢাক না রেখে আক্রমণ করেন। প্রায় ৪৫ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, শুল্ক আরোপ অব্যাহত রাখতে তিনি বিকল্প পথ খুঁজে বের করবেন।

পুরো সময়ই ট্রাম্প বিচারপতিদের এমনভাবে আক্রমণ করেন, যাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল যে এ রায়কে তিনি ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে নিয়েছেন।

আক্রমণের ক্ষেত্রে রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাট মনোনীত বিচারপতিদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি ট্রাম্প। শুল্ক বাতিলের পক্ষে রায় দেওয়া ছয় বিচারপতির তিনজন ডেমোক্র্যাটদের মাধ্যমে এবং অন্য তিনজন রিপাবলিকানদের মাধ্যমে নিযুক্ত।
সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে রায় লেখা প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের মনোনীত। অন্য দুই বিচারপতি নিল গোরসাচ ও অ্যামি কোনি ব্যারেট স্বয়ং ট্রাম্পের হাতেই তার প্রথম মেয়াদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। ট্রাম্প কাউকেই ছাড় দেননি।

রিপাবলিকান দলের ভেতর যারা যথাযথ মাত্রায় অনুগত নন, তাদের অপমান করতে ব্যবহৃত ‘রাইনো’(নামমাত্র রিপাবলিকান) শব্দটি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (এই বিচারপতিরা) স্রেফ রাইনো ও চরম বামপন্থী ডেমোক্র্যাটদের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করছেন।’

কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, আদালত ‘বিদেশি স্বার্থে’ প্রভাবিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, আদালত বিদেশি স্বার্থের কাছে নতি স্বীকার করেছেন।’ তবে সংবাদকর্মীরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি।

নিজের প্রথম মেয়াদে মনোনীত বিচারপতি গোরসাচ ও কোনি ব্যারেটকে নিয়োগ দিয়ে তিনি কোনো ভুল করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বলেননি। তবে শুল্ক বাতিলের পক্ষে তাদের ভোটকে ‘লজ্জাজনক’ উল্লেখ করার পাশাপাশি তিনি বিচারপতিদের পরিবারের প্রসঙ্গও টেনে আনেন, যা নজিরবিহীন। ট্রাম্প বলেন, ‘এটি তাদের পরিবার এবং পরস্পরের জন্য চরম লজ্জার।’

ছয় বিচারপতির কড়া সমালোচনা করলেও অপর তিন বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও ব্রেট ক্যাভানাউয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন ট্রাম্প। এই তিন বিচারপতি শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

সূত্র: বিবিসি

সর্বশেষ সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এ সাক্ষাৎ...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ