spot_img

ছেড়ে দেয়া হলো ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রুকে

অবশ্যই পরুন

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। প্রয়াত দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের কাছে গোপন সরকারি নথি পাঠানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি প্রকাশিত বিপুল নথির জেরে নতুন করে তদন্ত শুরু হলে এই পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। এটি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তির ওপর আবারও চাপ তৈরি করেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের সাবেক সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার ৬৬ বছরে পা রাখা মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে সারাদিন ধরে থেমস ভ্যালি পুলিশের গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে পুলিশ জানায়, যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে কাজ করার সময় তিনি এপস্টেইনের কাছে নথি পাঠিয়েছিলেন বলে যে অভিযোগ সামনে এসেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পর ব্রিটিশ রাজা চার্লস বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’

মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ এপস্টেইন-সংক্রান্ত ৩০ লাখের বেশি নথি প্রকাশের পর প্রেন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে এবং পরে সেগুলো নিয়েই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রকাশিত কিছু নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ২০১০ সালে সরকারি সফরে ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের প্রতিবেদন এপস্টেইনের কাছে পাঠিয়েছিলেন মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর। এমনকি একটি গোপন স্মারকে আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে এপস্টেইনের মতামতও চেয়েছিলেন তিনি।

সহকারী প্রধান কনস্টেবল অলিভার রাইট বলেন, ‘বিস্তৃত মূল্যায়নের পর সরকারি দায়িত্বে থেকে অসদাচরণের এই অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছি আমরা। অভিযোগটি তদন্তে আমরা আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছি। তদন্তের সততা ও নিরপেক্ষতা রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে জনস্বার্থ যে ব্যাপক, তা আমরা বুঝি। উপযুক্ত সময়ে হালনাগাদ তথ্য দেয়া হবে।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে সহযোগিতা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়’। তবে মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

এদিকে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কয়েক মাস ধরে নিজ দেশে তীব্র সমালোচনার মধ্যে ছিলেন অ্যান্ড্রু। এই অভিযোগে তার প্রিন্স উপাধি ও সম্মাননাও বাতিল করেন বড় ভাই ও রাজা তৃতীয় চার্লস।

সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা এপস্টেইন ফাইলের কিছু ই-মেইল থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে অ্যান্ড্রু ছাড়াও এপস্টেইনের সঙ্গে তার সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসন ও দুই মেয়ে প্রিন্সেস বিয়াট্রিচ ও ইউজিনির যোগাযোগ ধারণার চেয়েও অনেক বেশি ছিল।

তবে সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু সব সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। এছাড়া এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে নাম থাকা মানেই যে কেউ কোনও অপরাধে জড়িত ছিলেন, তা নাও হতে পারে।

সর্বশেষ সংবাদ

স্বাস্থ্য খাতকে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিমুক্ত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বকুল

স্বাস্থ্য খাতকে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, মানুষকে ডাক্তারের পেছনে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ