যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা প্রশমনের আশা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানিকারক দেশ থেকে সরবরাহ বিঘ্ন হওয়ার ঝুঁকি কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস ব্যারেলপ্রতি ৩ সেন্ট বা ০.০৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৬৭.৩৯ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৫ সেন্ট বা ০.০৮ শতাংশ কমে ৬২.২৮ ডলারে লেনদেন হয়। উভয় তেলই বর্তমানে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
মঙ্গলবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আলোচনায় প্রধান কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায় দুপক্ষ। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, এর অর্থ এই নয় যে খুব শিগগিরই কোনো চুক্তি হতে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা সম্ভাব্য অগ্রগতি নিয়ে এখনো সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন। রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপ জানায়, এপ্রিলের শেষ নাগাদ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সম্ভাবনা ৬৫ শতাংশ বলে তারা মনে করছে। এছাড়া তেলের দামের ওপর আরেকটি চাপ তৈরি করেছে রাশিয়ান গণমাধ্যমের প্রতিবেদন। এতে বলা হয়, জানুয়ারিতে উৎপাদন স্থগিত থাকার পর কাজাখস্তানের তেঙ্গিজ তেলক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই তেলক্ষেত্রটি ফেব্রুয়ারি ২৩-এর মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছে বলে রয়টার্সের সূত্র জানিয়েছে।
বাজারের দৃষ্টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক জ্বালানি প্রতিবেদনগুলোর দিকে। দিনের শেষভাগে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট এবং বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরের পরিসংখ্যান শাখা এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
রয়টার্স পরিচালিত এক জরিপে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়েছে, তবে ডিস্টিলেট ও পেট্রোলের মজুত কমেছে। তাদের হিসাবে, ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ২৩ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। একই সময়ে পেট্রোলের মজুত প্রায় ২ লাখ ব্যারেল কমেছে এবং ডিজেল ও হিটিং অয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে।

