যুক্তরাষ্ট্রে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ও শিখ ফর জাস্টিস–এর প্রতিষ্ঠাতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন ভারতের নাগরিক নিখিল গুপ্ত। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে তিনি এ স্বীকারোক্তি দেন।
৫৪ বছর বয়সী নিখিল গুপ্ত আদালতে জানান, ২০২৩ সালে পান্নুনকে হত্যার উদ্দেশ্যে একজন ‘হিটম্যান’ ভাড়া করার প্রক্রিয়ায় তিনি যুক্ত ছিলেন। এ জন্য তিনি ভারত থেকে অনলাইনে ১৫ হাজার ডলার পাঠিয়েছিলেন। তবে যাকে তিনি পেশাদার খুনি মনে করেছিলেন, তিনি ছিলেন মার্কিন মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একজন গোপন সোর্স।
মার্কিন প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে বসবাসরত এক মার্কিন নাগরিককে হত্যার ষড়যন্ত্রে অংশ নিয়েছিলেন গুপ্ত। এফবিআইয়ের নিউইয়র্ক কার্যালয়ের প্রধান জেমস সি. বার্নাকল জানান, ভারতের এক সরকারি কর্মকর্তার নির্দেশে এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অভিযোগপত্রে ওই কর্মকর্তার নাম বিকাশ যাদব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি বর্তমানে পলাতক।
২০২৩ সালের জুনে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগ বিমানবন্দর থেকে গুপ্তকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। তিনি ‘ভাড়ায় হত্যা’ ও ‘অর্থপাচার’ সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। আদালতের নির্দেশিকা অনুযায়ী তার ২০ থেকে ২৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী ২৯ মে তার সাজা ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে।
গুরপতবন্ত সিং পান্নুন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে খালিস্তান আন্দোলনের অন্যতম মুখ, এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি তার রাজনৈতিক ও আইনি আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তিনি নিখিল গুপ্তকে এই ষড়যন্ত্রের একজন ‘সৈনিক’ আখ্যা দিয়ে ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিচারের দাবি জানান। তবে ভারত সরকার বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
শুনানির দিন আদালতের বাইরে খালিস্তান সমর্থকদের জড়ো হতে দেখা যায়। তারা স্বাধীন ‘খালিস্তান’ রাষ্ট্রের দাবিতে স্লোগান দেন। এই ঘটনায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

