বাংলাদেশে চলমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় নয়াদিল্লি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ কথা জানান।
ফলাফল দেখে ভারত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে উল্লেখ করে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, নির্বাচনের ফলাফল না আসা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করা উচিত। আমরা ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করব এবং দেখব ভোটাররা কেমন ম্যান্ডেট দেন। এরপরই আমরা বাকি বিষয়গুলো নিয়ে ভাবব।
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশটিতে একটি ‘অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য’ নির্বাচনের পক্ষে নয়াদিল্লি সবসময়ই সোচ্চার ছিল।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক সমীকরণ হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার পতনের পর এটিই বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন। বর্তমানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে দীর্ঘ দেড় দশক পর মাঠে ফেরা বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বিএনপি ও জামায়াতের অবস্থান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিএনপি প্রধান তারেক রহমান বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলে জোরালো প্রচার চালানো জামায়াতে ইসলামী বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়বিচার ভিত্তিক সমাজ গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
নির্বাচনী চিত্র বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বর্তমানে দেশজুড়ে গণনা চলছে। বড় কোনো সহিংসতা ছাড়াই ভোট শেষ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে উভয় পক্ষের নেতারাই পাল্টাপাল্টি কিছু হুমকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইঙ্গিত দিয়েছে , নির্বাচনের পর বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক শক্তিই ক্ষমতায় আসুক না কেন, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে তারা ঢাকার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
সূত্র- হিন্দুস্থান টাইমস

