বর্তমান সময়ে অনেক পুরুষই সামান্য পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। দিনের শুরুতেই শরীরে দুর্বলতা, অল্প কাজেই হাঁপিয়ে ওঠা কিংবা সারাক্ষণ অবসন্ন লাগার মতো সমস্যা এখন বেশ সাধারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে প্রধানত দায়ী অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ঘাটতি।
নিয়মিত ঘুমের অভাব, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরচর্চা না করার ফলে শরীর ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক শক্তি ও কর্মক্ষমতা হারাচ্ছে। এতে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক উদ্যমও কমে যাচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
কেন অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন পুরুষরা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরুষদের দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ কাজ করছে—
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়া: টেস্টোস্টেরন পুরুষদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হরমোন। এটি শরীরের শক্তি, পেশি গঠন, যৌনক্ষমতা এবং মানসিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ হরমোনের মাত্রা কমে গেলে ক্লান্তি, হতাশা ও কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।
অনিয়মিত জীবনযাপন: দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, ফাস্টফুড ও প্রসেসড খাবারের ওপর নির্ভরতা শরীরকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে তোলে। এর ফলে শরীর তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারায়।
শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: ব্যায়ামের অভাব রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয় এবং পেশির শক্তি হ্রাস করে। এর ফলে অল্প কাজেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনলেই শরীরের হারানো এনার্জি অনেকটাই ফিরে পাওয়া সম্ভব—
সুষম খাদ্য গ্রহণ: খাদ্যতালিকায় নিয়মিত রাখুন শাকসবজি, ফলমূল, ডিম, মাছ, মাংস ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার।
নিয়মিত ব্যায়াম: প্রতিদিন হালকা হাঁটা, যোগব্যায়াম বা বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যায়াম করুন।
পর্যাপ্ত পানি পান: দিনে অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করে শরীর হাইড্রেটেড রাখুন।
ঘুম ও বিশ্রাম: প্রতিদিন ৬–৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, শরীরের ক্লান্তিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন এ সমস্যা চলতে থাকলে তা জটিল রোগের দিকে নিয়ে যেতে পারে। সময়মতো সচেতন হলে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গড়ে তুললে পুরুষদের শরীরে সহজেই ফিরে আসতে পারে কর্মশক্তি ও চনমনে অনুভূতি।

