অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার লক্ষ্যে নতুন কিছু নিয়ম অনুমোদন দিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আল-জাজিরা। এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি এই সিদ্ধান্তকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এটি বসতি সম্প্রসারণ ও ভূমি দখলকে বৈধতা দেয়ার জন্য ইসরায়েলের একটি ‘খোলামেলা প্রচেষ্টা’। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি ‘অবৈধ ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার’ এবং বসতি স্থায়ী করার উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে।
এদিকে হামাস পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের প্রতি ‘দখলদার বাহিনী ও বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আরও জোরদার করার’ আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মগুলোর ফলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা সহজ হবে এবং ওই অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের ওপর আইন প্রয়োগে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিম তীর, গাজা ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে নিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের দাবি করে আসছে ফিলিস্তিনিরা। বর্তমানে পশ্চিম তীরের বড় একটি অংশ সরাসরি ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিছু এলাকায় সীমিত স্বশাসন থাকলেও সেগুলো পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) অধীনে পরিচালিত।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়নেট ও হারেতজ জানিয়েছে, নতুন পদক্ষেপগুলোর মধ্যে ইহুদি নাগরিকদের পশ্চিম তীরে জমি কেনায় বাধা দেয়া নিয়ম বাতিল করার বিষয়টিও রয়েছে। এছাড়া কিছু ধর্মীয় স্থানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে নেয়া এবং পিএ-শাসিত এলাকাগুলোতে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে সমাধিস্থ করে যেতে থাকব।’

