পেটের চর্বি নিয়ে সমস্যায় ভুগে এমন মানুষ কমই আছেন। অনেকে খাবার নিয়ন্ত্রণ করেও বা জিমে ঘাম ঝরালেও ফলাফল পান না। কিন্তু ৩০-এর পরে শরীরে ঘটে এমন কিছু পরিবর্তন আছে যা পেটের চর্বি বাড়ার প্রধান কারণ। এ বিষয়ে ফ্রেমন্টের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট এবং হেপাটোলজিস্ট বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ড. সৌরভ শেঠি বিস্তারিত জানিয়েছে।
*ওজন বৃদ্ধি: আগের মতো খাবার খেলে পেটের চর্বি বেশি জমে।
*কসরতের কম কার্যকারিতা: একই ব্যায়াম কম ফল দেয়।
*দৃশ্যমান পরিবর্তন: সামান্য “চিট ডে” তেও চর্বি জমা স্পষ্ট দেখা যায়।
ড. শেঠি বলেন, এটি কোন স্বাভাবিক বিষয় নয়, অর্থাৎ এই পরিবর্তনগুলো মূল কারণের দিকে ইঙ্গিত দেয়। পেটে চর্বি জমার কারণ নিয়ে ড. শেঠি বলেন, ৩০-এর পর প্রতিটি দশকে মাংসপেশীর মাত্রা ৩-৮ শতাংশ হ্রাস পায়। মাংসপেশী কমলে শরীরের শক্তি খরচও কমে যায়। এমনকি ১ কেজি মাংসপেশী হারালেও দৈনিক ক্যালরি খরচ কমে যায়। ফলে গ্লুকোজ বা শর্করা রক্তে দীর্ঘ সময় থাকে এবং পেটের চর্বি হিসেবে জমা হয়।
মাংসপেশীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার দিকে তিনি ইঙ্গিত দেন। শরীরের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ গ্লুকোজ ব্যবস্থাপনা মাংসপেশী দ্বারা হয়। ড. শেঠি বলেন, মাংসপেশী কমলে রক্তে গ্লুকোজ দীর্ঘ সময় থাকে এবং পেটের চর্বি হিসেবে জমা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
ইনসুলিন সংবেদনশীলতা ও হরমোন পরিবর্তন
ড. শেঠি আরও বলেন, প্রতিটি দশকে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা প্রায় ৪-৫ শতাংশ কমে যায়। এর অর্থ, একই পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট বেশি চিনি বৃদ্ধি করে, যা দ্রুত চর্বি জমাতে সাহায্য করে, বিশেষ করে পেটের চারপাশে। ৩০-এর পর হরমোনের ভারসাম্যও পরিবর্তিত হয়। গ্রোথ হরমোন এবং টেস্টোস্টেরন বা এইস্ট্রোজেন কমে যায়, কিন্তু কোর্টিসল বাড়ে। এই সংমিশ্রণ গভীর পেটের চর্বি জমার দিকে প্রভাব ফেলে।
ড. শেঠি বলেন, ভিসেরাল ফ্যাট বা গভীর পেটের চর্বি সাবকিউটেনিয়াস চর্বির তুলনায় দ্রুত জমে। এটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চারপাশে জমে ইনসুলিন রেজিস্টেন্স এবং প্রদাহ বাড়ায়।”তিনি আরও বলেন, যাদের লিভার ফ্যাটি, প্রিডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিস এবং উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড আছে, তাদের জন্য সমস্যা আরও গুরুতর হয়, কারণ ইনসুলিন রেজিস্টেন্স পেট এবং লিভারে আরও বেশি চর্বি জমায়। আর বেশ কিছু ইঙ্গিত দেয় শরীর। যেমন:
*ওজন স্থিতিশীল থাকলেও পেট বেড়ে যায়
*বিকেলের মধ্যে শক্তি কমে যায়
*চিনি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়ে
*কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার পর পেট ফোলা অনুভূত হয়
*উপরের পেটের চর্বি জমে
সমাধান: ড. শেঠি কয়টি সহজ নিয়মের উপর জোর দেন:
*প্রোটিন প্রতিদিন প্রায় ১.২-১.৬ গ্রাম প্রতি কেজি শরীরের ওজন অনুযায়ী খাওয়া
*সপ্তাহে ৩ বারের বেশি স্ট্রেংথ ট্রেনিং
*দৈনিক হাঁটা ও হালকা ব্যায়াম
*প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা নিখুঁত ঘুম
*কোন এক্সট্রিম বা জিমিক নয়, নিয়মিত জীবনধারা মানা
৩০-এর পরে পেটের চর্বি বেড়ে যাওয়া সাধারণ। তবে সচেতন জীবনধারা, সঠিক ডায়েট এবং নিয়মিত ব্যায়াম অনুসরণ করলে এই সমস্যা অনেকটা কমানো সম্ভব। মাংসপেশী বজায় রাখা, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ানো এবং হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখাই পেটের চর্বি নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি।
সূত্র: এনডিটিভি

