spot_img

ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও গাজা ছাড়তে চান না বয়স্ক ফিলিস্তিনিরা

অবশ্যই পরুন

চরম মানবিক সংকট, চিকিৎসার অভাব আর লাগাতার বাস্তুচ্যুতির মধ্যেও গাজা ছাড়তে রাজি নন বয়স্ক ফিলিস্তিনিরা। রাফাহ সীমান্ত আংশিক খুললেও, অনেক প্রবীণের কাছে গাজায় থেকে যাওয়াই প্রতিরোধ আর আত্মপরিচয়ের লড়াই। ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেও মাতৃভূমি আঁকড়ে থাকার গল্প যেনো ক্রমশই বাড়ছে ফিলিস্তিনে।

যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘনের পর অবশেষে দুই বছর পর রাফাহ সীমান্ত আংশিকভাবে খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন কিছু ফিলিস্তিনি। এতে স্বস্তি মিললেও, গাজার বহু প্রবীণ মানুষের সিদ্ধান্ত একেবারেই ভিন্ন, ‘তারা কোথাও যাবেন না’।

৭৩ বছর বয়সী কেফায়া আল-আসসার। উত্তর গাজার জাবালিয়া থেকে বহুবার বাস্তুচ্যুত হয়ে এখন আশ্রয় নিয়েছেন নুসেইরাতের একটি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে। ইসরায়েলি আগ্রাসনে পাঁচবার ঘরছাড়া এই নারী বলেন, ‘গাজা ছাড়ার ইচ্ছা থাকলে আগেই ছাড়তাম। এই মাটিই আমার সব। এই ভূমি ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না।’

১৯৪৮ সালের নাকবার সময় তার বাবা-মা নিজ গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তকেই জীবনের বড় ভুল মনে করেন কেফায়া। তাই আজ, চিকিৎসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও গাজা ছাড়তে নারাজ তিনি। তার ভাষায়, নিজের ভূমিতে মৃত্যুই হবে তার শেষ ইচ্ছা।

উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগে ভুগলেও যুদ্ধের কারণে চিকিৎসা পাচ্ছেন না কেফায়া। তবুও তিনি বলেন, ‘নিজের দেশে থেকেই মরতে চাই। বাইরে গিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে এটাই সম্মানের।’

এমন দৃশ্য শুধু একজনের নয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যে উঠে এসেছে, গাজার অধিকাংশ প্রবীণ এখন তাঁবুতে বাস করছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে অনেকেই চিকিৎসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ অন্যদের জন্য খাবার বাঁচাতে নিজের খাবারও ছেড়ে দিচ্ছেন।

৮৫ বছর বয়সী নাজমিয়া রাদওয়ানও গাজা ছাড়তে রাজি নন। নাকবার সময় জেরুজালেম থেকে বিতাড়িত হয়ে গাজায় এসেছিলেন তিনি। অসুস্থ, একা ও দুর্বল শরীর নিয়েও তার স্পষ্ট ঘোষণা, ভিক্ষা করেও গাজায় থাকবেন, তবু মাতৃভূমি ছাড়বেন না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজায় থেকে যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত শুধু বেঁচে থাকার নয়, এটি এক ধরনের ‘নীরব প্রতিবাদ’। প্রবীণ ফিলিস্তিনিদের কাছে ভূমি মানেই স্মৃতি, পরিচয় আর অস্তিত্ব। সব হারিয়েও তারা হারাতে চান না নিজেদের দেশ।

সূত্র: ওলা আল আসি ( ফিলিস্তিনি সাংবাদিক, আল জাজিরা)

সর্বশেষ সংবাদ

হাদি হত্যার বিচার: জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠাবে অন্তর্বর্তী সরকার

শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ