পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার অর্থনীতিতে ব্যাপকমাত্রায় প্রভাব ফেলছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যেই দেশটির যুদ্ধভিত্তিক অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে। ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় হামলা চালানোর চার বছর পূর্তির আগমুহূর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক বিশেষ দূত ডেভিড ও’সালিভান এসব কথা বলেছেন।
দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা কোনো ‘যাদুকরি সমাধান’ নয় এবং ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা থাকবেই, তবে চার বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি নিশ্চিত-এগুলোর প্রভাব ব্যাপক। তার ভাষায়, বেসামরিক অর্থনীতির ক্ষতি করে যুদ্ধ সম্পর্কিত অর্থনীতি গড়ে তোলায় রাশিয়ার সামগ্রিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
ও’সালিভান জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার হামলা বেড়েছে এবং গত জানুয়ারির তুলনায় গত মাসে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দ্বিগুণ হয়েছে। তবে এর মাশুলও দিচ্ছে রাশিয়া-তেলের আয় কমছে, মূল্যস্ফীতি প্রায় ৬ শতাংশ এবং সুদের হার ১৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
২০২২ সাল থেকে ইইউ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ১৯ দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার আওতায় ২ হাজার ৭০০-এর বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং জ্বালানি, বিমান চলাচল, আইটি, বিলাসপণ্য, হীরা ও স্বর্ণসহ নানা খাতে বাণিজ্য স্থগিত রয়েছে।
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি রোধে ইইউ কিছু সাফল্য পেয়েছে, বিশেষ করে মধ্য এশিয়া, ককেশাস, তুরস্ক, সার্বিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে অস্ত্র-সম্পর্কিত পণ্যের পুনঃরপ্তানি ঠেকাতে। তবে চীনকে তিনি ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেন, যা রাশিয়াকে পরোক্ষভাবে সহায়তা দিচ্ছে বলে ইইউর উদ্বেগ রয়েছে।

