বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপি, ব্যাংক ডাকাত-এই নেতৃত্ব দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ হবে না। যুবকদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়া যাবে না। যাদের চরিত্রবল আছে, যাদের মধ্যে সততা আছে, দেশপ্রেম আছে, যারা মানুষের সঙ্গে লেগে থাকে সুখে-দুঃখে, যারা বসন্তের কোকিল নয়-বাংলাদেশ গড়া হবে তাদের দিয়ে। এই বাংলাদেশ আর হামাগুড়ি দিয়ে, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সামনে যাবে-ওটা আমরা চাই না।’
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘একসময় মুখ লুকিয়ে যাঁরা ছিলেন, কোনো কথা বলতেন না, এখন তাঁরা বাধ্য হয়েছেন ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে কথা বলতে। কিন্তু আমরা চাই, মুখের কথাই যেন তাদের বুকের কথা হয়। ‘হ্যাঁ’–এর বিপক্ষে যারা অবস্থান নেবেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ ধরে নেবে; তারা আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চান। আবার পরিবারকেন্দ্রিক স্বৈরতান্ত্রিক শাসন বাংলাদেশে চালু করতে চান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না।…আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে সবার বিজয় হবে। আমিও তার থেকে বাদ পড়ব না। আর দল, পরিবার, গোষ্ঠীর বিজয় হলে-তারপর জাতির ওপর তাণ্ডব চালানো হবে। ধিক্কার জানাই ওই বিজয়কে। ওই বিজয় আমাদের প্রয়োজন নেই।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘বাংলাদেশের যে পরিমাণ টাকা লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে সেটা ২৮ লাখ কোটি টাকা। বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের চার গুণ। এটা জনগণের টাকা। এই টাকা চোররা, ডাকাতেরা, লুণ্ঠনকারীরা চুরি করে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি-ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনব এবং সেই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে।’
সোমবার দুপুর পৌনে ১২টায় জামায়াত আমিরকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি মহেশখালীতে অবতরণ করে। জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে দলের প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ এবং ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

