বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসে চুল পাকে, শক্তি কমে, আর ধীরে ধীরে কমতে থাকে পেশির পরিমাণ ও শক্তি। এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াই অনেক সময় রূপ নেয় এক বিশেষ সমস্যায়, যার নাম সারকোপেনিয়া। চিকিৎসকদের মতে, বিষয়টি বুঝে আগেভাগে ব্যবস্থা নিতে পারলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি জানান, ৩০ বছর বয়সের পর প্রতি বছর নীরবে প্রায় ১ শতাংশ করে পেশি কমতে শুরু করে। আমরা টেরও পাই না। এই বয়সজনিত পেশি ক্ষয়কেই বলা হয় সারকোপেনিয়া।
সারকোপেনিয়া ভয়াবহ কেন
পেশি শুধু শরীর নড়াচড়ার জন্যই নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত জরুরি। পেশি কমে গেলে শরীরে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা—
- বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়
- শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে
- ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ে
- ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়
- হাড় দুর্বল হয়, ভঙ্গি খারাপ হতে থাকে
ডা. শেঠির ভাষায়, পেশি হলো শরীরের সবচেয়ে বড় ‘গ্লুকোজ স্পঞ্জ’। এটি রক্ত থেকে চিনি শোষণ করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে পেশি ক্ষয়ের গতি আরও বেড়ে যায়। ইস্ট্রোজেন হরমোন কমতে শুরু করায় পেশি দ্রুত ভাঙতে থাকে। তাই অনেক নারী ওজন একই থাকলেও নিজেকে দুর্বল মনে করেন।
সারকোপেনিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ
শুরুতে এই সমস্যার লক্ষণ খুব সূক্ষ্ম হয়, তাই অনেকেই গুরুত্ব দেন না। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- অকারণ ক্লান্তি
- আগের তুলনায় শক্তি কমে যাওয়া
- হাঁটার গতি ধীর হয়ে যাওয়া
- সিঁড়ি ভাঙতে বা চেয়ার থেকে উঠতে কষ্ট হওয়া
- শরীরের ভারসাম্য কমে যাওয়া
- বারবার পড়ে যাওয়ার প্রবণতা
সময়মতো খেয়াল না করলে সমস্যা ধীরে ধীরে গুরুতর আকার নিতে পারে।
ওজন বা ব্যায়াম সরঞ্জাম ব্যবহার করে ব্যায়াম করলে পেশির শক্তি বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রেও এই ব্যায়াম কার্যকর। ছবি: সংগৃহীত
সমাধান: পেশি শক্ত রাখতে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন ডা. সৌরভ শেঠি। তার পরামর্শ অনুযায়ী—
রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং: ওজন বা ব্যায়াম সরঞ্জাম ব্যবহার করে ব্যায়াম করলে পেশির শক্তি বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রেও এই ব্যায়াম কার্যকর।
পর্যাপ্ত প্রোটিন: প্রতিদিন খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা জরুরি। চিকিৎসকের মতে, দৈনিক খাদ্যতালিকায় শরীরের ওজন অনুযায়ী প্রায় ১.২ থেকে ১.৬ গ্রাম প্রোটিন যোগ করা উচিত।
নিয়মিত হাঁটা ও শরীরচর্চা: দ্রুত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম পেশি ক্ষয় ধীর করে।
ভালো ঘুম ও ভিটামিন ডি: পর্যাপ্ত ঘুম এবং শরীরে ভিটামিন ডির সঠিক মাত্রা পেশি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।
ডা. শেঠি বলেন, বয়স হওয়ার অপেক্ষা করবেন না পেশি গড়ার জন্য। বরং তরুণ থাকতে পেশি গড়ে তুলুন, যাতে বয়স হলেও শরীর থাকে শক্ত, সক্রিয় ও সুস্থ । সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম আর সচেতনতাই পারে সারকোপেনিয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে।
সূত্র: এনডিটিভি

