চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত জেনারেল ঝাং ইউজিয়াকে নাটকীয়ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর এই জেনারেলের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর শৃঙ্খলা ও আইন লঙ্ঘনের’ অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে বেইজিং। একই সঙ্গে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (সিএমসি) চিফ অফ স্টাফ জেনারেল লিউ ঝেনলির বিরুদ্ধেও তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সামরিক নেতৃত্বের এই পতন চীনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চীনের সামরিক বাহিনীতে চলমান শুদ্ধি অভিযানের সবচেয়ে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বরখাস্তের পেছনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেল ঝাং ইউজিয়ার বিরুদ্ধে চীনের অত্যন্ত গোপনীয় পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চপদে পদোন্নতির বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের ঘুষ গ্রহণের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
চীনের সেনাবাহিনীর সরকারি মুখপত্র লিবারেশন আর্মি ডেইলি এক সম্পাদকীয়তে দাবি করেছে, অভিযুক্ত জেনারেলরা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি ‘গুরুতর বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন এবং সেনাবাহিনীর ওপর পার্টির একচ্ছত্র কর্তৃত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছেন।
জেনারেল ঝাং ইউজিয়া ছিলেন শি জিনপিংয়ের ছায়াসঙ্গী এবং হাতে গোনা কয়েকজন যুদ্ধভিজ্ঞ চীনা সেনাপ্রধানের একজন। তাকে সরিয়ে দেওয়ার ফলে চীনের সামরিক আধুনিকীকরণ কর্মসূচি ও তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের ভবিষ্যৎ কৌশলে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে গঠিত সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের সাত শীর্ষ নেতার মধ্যে এখন শি জিনপিং ছাড়া প্রায় সবাই দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত বা অপসারণের মুখে পড়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই শুদ্ধি অভিযান স্পষ্ট করে দিচ্ছে—নিজের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করতে শি জিনপিং তার সবচেয়ে কাছের ও বিশ্বস্ত সহযোগীকেও ছাড় দিতে প্রস্তুত নন।
সূত্র: ফক্স নিউজ

