আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের জন্য শেষ ওভারে ইতালির দরকার ছিল ১৬ রান। তবে আইরিশ বোলার ব্যারি ম্যাককার্থিকে টানা ৩ ছক্কা মেরে তিন বল হাতে রেখেই ম্যাচ নিজেদের করে নেন ইতালির ব্যাটার গ্র্যান্ট স্টুয়ার্ট।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে সোমবার আয়ারল্যান্ডকে চার উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল ইতালি। পূর্ণ সদস্যভুক্ত কোনো আইসিসি দলের বিপক্ষে এটি ইতালির প্রথম জয়। এর আগে শুক্রবার ও রোববারের দুই ম্যাচ জিতে তিন ম্যাচের সিরিজ আগেই ২–০ ব্যবধানে নিশ্চিত করেছিল আয়ারল্যান্ড।
দুবাইয়ে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের ভিত গড়ে দেন ওপেনার পল স্টার্লিং। তিনটি ছক্কা ও দুটি চারে ৪৫ রান করেন তিনি। মাঝের দিকে মার্ক অ্যাডায়ার (২৫) ও বেন ক্যালিটজ (২২) কিছুটা অবদান রাখলেও শেষদিকে ধস নামে।
শেষ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ড ১৯.৪ ওভারে অলআউট হয় ১৫৪ রানে। ইতালির বোলারদের মধ্যে ক্রিশান কালুগামাগে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন। গ্রান্ট স্টুয়ার্ট ও জেজে স্মাটস নেন দুটি করে উইকেট।১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইতালির শুরুটা স্বস্তিদায়ক ছিল না।
টপ অর্ডারে ওয়েন ম্যাডসেন ৩৯ রান করে বিদায় নিলে পাঁচ উইকেট হারিয়ে দলীয় স্কোর দাঁড়ায় ১০৮ রানে। এরপর জিয়ান-পিয়েরো মেইড আউট হলে ১১১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ইতালি। জয়ের জন্য তখন প্রয়োজন ছিল ২৩ বলে ৪৪ রান।
চাপের মুহূর্তে সপ্তম উইকেটে গ্র্যান্ট স্টুয়ার্ট ও মার্কাস ক্যাম্পোপিয়ানোর ৪৬ রানের জুটি দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। শেষ পর্যন্ত স্টুয়ার্টের টানা ৩ ছক্কার মারে তিন বল হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ইতালি।
এর মধ্যে ১৯ বলে ৩৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন স্টুয়ার্ট। আয়ারল্যান্ডের হয়ে ম্যাথিউ হামফ্রিস ও মার্ক অ্যাডায়ার চার ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন দুটি করে উইকেট।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এই সিরিজটি ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ। আয়ারল্যান্ড ৮ ফেব্রুয়ারি সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। গ্রুপ ‘বি’তে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ওমান ও জিম্বাবুয়ে।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা ইতালি ৯ ফেব্রুয়ারি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে। গ্রুপ ‘সি’তে তাদের সঙ্গে আছে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নেপাল।

