এবার বুঝি খানিকটা জোর গলায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমর্থকরা বলতে পারবেন, “অবশেষে রেড ডেভিলদের সুদিন ফিরেছে।” পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটিকে হারানোর পর মাইকেল ক্যারিকের কোচিংয়ে ম্যান ইউনাইটেড জয় পেল মিকেল আরতেতার আর্সেনালের বিপক্ষে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গতকাল আর্সেনালের মাঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ৩-২ গোলের এই জয় কেন বিশেষ সেটাই আগে জেনে আসা যাক। ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বরের পর কোনো দল ছন্দের তুঙ্গে থাকা আর্সেনালের জালে তিনবার বল পাঠাল। ২০২৫-২৬ মৌসুমে গানারদের ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনালকে প্রথম হারের তেতো স্বাদ দেওয়া দল ম্যান ইউনাইটেড। চলতি মৌসুমে লিগে সবচেয়ে কম গোল হজম করা ক্লাবের নাম আর্সেনাল।
সব হিসেব একপাশে রেখে রুবেন আমোরিমের হতাশার চরমে থাকা দলের মধ্যে যেভাবে প্রাণের সঞ্চার করেছেন নতুন কোচ ক্যারিক, তাতে নতুন করে আবার স্বপ্ন দেখতেই পারে ‘রেড ডেভিলরা।
প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে ছিনিয়ে আনা এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চারে প্রবেশ করল ইউনাইটেড। ২৩ ম্যাচে ১০জয়, আট ড্র ও পাঁচ হারে তাদের পয়েন্ট ৩৮। বিপরীতে ২০০৪ সালের পর লিগ জয়ের দৌড়ে থাকা আর্সেনাল লিভারপুলের বিপক্ষে ড্রয়ের পর ইউনাইটেডের বিপক্ষে হেরে শীর্ষে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হারাল। সমান ম্যাচে গানারদের সংগ্রহ ৫০ পয়েন্ট।
লিসান্দ্রো মার্তিনেসের আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, ব্রায়ান এমবুমোর গোলে সমতায় ফেরে ম্যান ইউনাইটেড। বিরতির পর প্যাট্রিক ডগুর গোলে এগিয়েও যায় তারা। কর্নার থেকে গোল করাকে অভ্যাসে পরিণত করা আর্সেনাল শেষ দিকে মিকেল মেরিনোর গোলে পয়েন্ট পাওয়ার আশা জাগায়। কিন্তু দারুণ নৈপুণ্যে তাদের সেই আশা গুঁড়িয়ে দেন মাথেউস কুনহা।
শুরুটা দারুণই করেছিল আর্সেনাল। ১৯তম মিনিটে ডেকলান রাইসের ফ্রি-কিক থেকে স্বাগতিকরা একটি পরিষ্কার সুযোগ পায়। কাসেমিরোর পরাস্ত করে মার্টিন জুবিমেন্দি নিখুঁত হেড করেছিলেন, তবে ইউনাইটেড গোলরক্ষক সেনে লামেন্স দুর্দান্ত রিফ্লেক্স সেভে তা ঠেকিয়ে দেন। এরপর উদ্বোধনী গোলের আগ পর্যন্ত বলার মতো তেমন কিছু ঘটেনি।
স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছিল, এই ম্যাচে দ্রুত আক্রমণে ওঠাই হবে মূল চাবিকাঠি। শুরুতেই ব্রুনো ফার্নান্দেস বল হারালে আর্সেনাল আক্রমণ তোলে। ডান দিক থেকে উঠে আসা উইলিয়াম সালিবার কাছে বল যায়, সেখান থেকে রাইসের শট লিসান্দ্রো মার্তিনেস ব্লক করে দেন।
২৯ মিনিটে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। বাইলাইন থেকে বুকায়ো সাকার কাটব্যাক পেয়ে শট নেন মার্টিন ওডেগার, বল গোলমুখে টিম্বারকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার মার্তিনেসের পায়ের পেছনে লেগে জালে জড়ায়।
মিনিট পাঁচেক পর সমতা টানার সুযোগ আসে ব্রুনো ফার্নান্দেসের। কিন্তু ডি-বক্সে দারুণ পজিশনে বল পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। অবশ্য সমতাসূচক গোল পেতে খুব একটা অপেক্ষা কবতে হয়নি সফরকারীদের। দুই মিনিট পরই ব্যবধান ১-১ করেন এমবুয়েমো। মার্টিন জুবিমেন্দির মারাত্মক এক ভুলে গোল হজম করে আর্সেনাল। ডি-বক্সের বাইরে অবিশ্বাস্য ভুল পাসে প্রতিপক্ষের এমবুমোর পায়ে বল তুলে দেন তিনি। তারপর বল ধরে বিনা বাধায় ডি-বক্সে ঢুকে, ঠাণ্ডা মাথায় গোলকিপারকে কাটিয়ে সমতা টানেন ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে অসাধারণ নৈপুণ্যে দলকে এগিয়ে নেন ডগু। ফার্নান্দেসের সঙ্গে দুইবার বল দেওয়া-নেওয়ার ফাঁকে প্রতিপক্ষের একাধিক খেলোয়াড়ের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে, ডি-বক্সের মুখে গিয়ে জোরাল শট নেন তরুণ ডেনিশ উইঙ্গার, বল গোলকিপারের ওপর দিয়ে গিয়ে ক্রসবারে লেগে ভেতরে ঢোকে।
পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের বেগ বাড়ায় আর্সেনাল। ৮৩ মিনিটে সাকার শট ঝাঁপিয়ে বল বাইরে পাঠান ইউনাইটেডের গোলকিপার। ওই কর্নারেই গোল পেয়ে যায় তারা। জটলার মধ্যে তাদের প্রথম প্রচেষ্টা গোললাইনে আটকে যাওয়ার পর, কাছ থেকে ফের শট নেন মিকেল মেরিনো, সেটি ফিরিয়ে দেন বেনিয়ামিন সেসকো; তবে ততক্ষণে বল গোললাইন পেরিয়ে যায়। তবে সমতায় ফেরার স্বস্তি স্থায়ী হয় মাত্র তিন মিনিট।
সতীর্থের পাস ধরে একটু এগিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বুলেট গতির শট নেন এমবুয়েমোর বদলি নামা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড কুনহা, বল পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ায়। এই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় ‘রেড ডেভিলদের’ দুর্দান্ত জয়।

