দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পকে সুরক্ষা প্রদান এবং স্পিনিং খাতের অস্তিত্ব রক্ষায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিটিএমএ’র কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন বিটিএমএ’র প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল। দেশবাসী এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকদের কাছে বিষয় তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি তথা রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকা শক্তি দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল সেক্টর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন । এর মধ্যে বন্ড সুবিধার মারাত্মক অপব্যবহার, গ্যাস ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, ব্যাংক সুদের হার ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি, রপ্তানির বিপরীতে নগদ প্রণোদনার অস্বাভাবিক হ্রাস এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারনে ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের সংকট ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পকে সুরক্ষা প্রদান এবং স্পিনিং খাতের অস্তিত্ব রক্ষায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিটিএমএ প্রাইমারি টেক্সটাইল সেক্টরের সর্ববৃহৎ সংগঠন, এর সদস্য সংখ্যা ১৮৬৯। এর মধ্যে স্পিনিং, উইভিং এবং ডাইং-প্রিন্টিং-ফিনিশিং মিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকা) যা বেসরকারি খাতে একক বিনিয়োগ হিসেবে সর্বাধিক। উল্লেখ্য, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশের অধকি অর্জিত হচ্ছে টেক্সটাইল এবং অ্যাপারলে খাত হতে; যার প্রায় ৭০ শতাংশের যোগানদাতা বটিএিমএ’র নেতৃত্বাধীন টেক্সটাইল খাত এবং এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিটেনশন প্রায় ৩০ শতাংশ। এছাড়াও বিটিএমএ এর সদস্য মিলগুলো ডেনিম, হোম টেক্সটাইল ও টেরি টাওয়ালের শতভাগ দেশীয় চাহিদা পূরণ করে রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। টেক্সটাইল সেক্টরের মিলগুলি দেশের ১৭ কোটি জনগোষ্ঠীর বস্ত্রের মৌলিক চাহিদার প্রায় সম্পূর্ণই যোগান দিচ্ছে । এতে দেশের ৮ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে, যা আমদানি পরিপূরক তথা Import Substitute হিসেবে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে। সরকারের যথাযথ সহযোগিতা পেলে রপ্তানি আয় ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার করা সম্ভব । একই খাতভূক্ত শিল্প হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই টেক্সটাইল খাতের যেকোনো সমস্যা সাপ্লাই চেইনে সংযুক্ত তৈরি পোশাক খাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ।
শওকত আজিজ রাসেল বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব, আমেরিকার রিসিপ্রকাল ট্যারিফ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বিশ্ব মন্দার কারণে অন্যান্য দেশের পাশাপাশি আমাদের শিল্প, অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় । টেক্সটাইল খাতের উল্লিখিত সমস্যাবলী ছাড়াও প্রতিবেশী দেশসহ অন্যান্য দেশ থেকে কোন রকম ডিউটি পরিশোধ ব্যতীত বন্ড সুবিধায় অবাধে সুতা আমদানি করা হচ্ছে । ফলে দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে এবং মিলগুলো প্রায় বন্ধের পর্যায়ে পড়েছে । ইতোমধ্যে ৬০টি মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং বাকিগুলো ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চললেও মিলগুলোতে প্রায় ১২ হাজার ৫ শত কোটি টাকার সুতা অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। এতে দেশীয় টেক্সটাইল মিলগুলো বিশেষ করে স্পিনিং সেক্টর মারাত্মক সংকটে পড়েছে। এছাড়াও আমাদের দেশে তুলা উৎপাদন না হওয়ায় বিদেশ থেকে তুলা আমদানি করে সুতা উৎপাদন করতে হয়। যা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হলেও দেশীয় মিলগুলো সরকারের সহযোগিতায় অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সুতা উৎপাদন করে নিট গার্মেন্টে ১০০ শতাংশ এবং ওভেন গার্মেন্টে ৭০ শতাংশ সুতা সরবরাহ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
উল্লেখ্, উল্লিখিত সমস্যাবলী আমলে নিয়ে গত ৬ মাস ধরে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত যাচাই বাছাই করে বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সাথে আলোচনা করে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়াসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফ ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে সুপারিশ করেন। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই সুপারিশকে এখনো কেন বাস্তবায়ন করা হয়নি তা বোধগম্য নয় ।
বিটিএমএ প্রেসিডেন্ট বলেন, সম্প্রতি আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি যে, আমাদের শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিনিং খাত ও সুতা আমদানি বিষয়ে কিছু তথ্য উপস্থাপন করেছেন; যা সঠিক নয়। বিটিএমএ’র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিএমএ, বিজিএমইএ এবং বিকেএমই এর সাথে আলোচনার পরেই ট্যারিফ কমিশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দাখিলকৃত তথ্য উপাত্ত যাচাই করে শুধুমাত্র ১০ থেকে ৩০ কাউণ্টের সুতা (৫২০৮, ৫২০৬, ৫২০৭) বন্ড সুবিধার বাইরে রাখার সুপারিশ করেন । যাতে ওই সুতা আমদানির ওপর নতুনভাবে কোনো শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়নি । জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, যদি কেউ রপ্তানির উদ্দেশ্যে ডিউটি পরিশোধ করে কাঁচামাল আমদানি করে উক্ত কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি পণ্য রপ্তানি করেন, তাহলে তিনি ডেডো এর মাধ্যমে ডিউটি ড্র ব্যাক পাবেন। এতে তার কোনো অতিরিক্ত খরচ হবে না । তাছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে সেফ গার্ড ডিউটি আরোপের কোন সুপারিশ করা হয়নি । উল্লিখিত সংবাদ সম্মেলনে তা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা অনাকাঙ্ক্ষিত। উল্লেখ্, বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানির মাধ্যমে তৈরি পোশাক খাতের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো বাস্তব সুবিধা পাচ্ছে না; বরং এই সুবিধা ভোগ করছে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। অন্যদিকে, স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেও পার্শবর্তী দেশের সরকার কর্তৃক প্রদত্ত প্রতি কেজিতে প্রায় ৫০ সেন্ট ভর্তুকি প্রদান করার কারনে টিকে থাকতে পারছে না। এসব বিবেচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) কিছু সুতাকে বন্ড সুবিধার আওতামুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে, যার শতভাগ সরবরাহ করা সক্ষমতা আমাদের দেশীয় মিলের রয়েছে। আমদানি করা সুতায় বৈদেশিক মুদ্রা রিটেনশন: ১৫ শতাংশ, বিটিএমএ: প্রায় ৩০ শতাংশ, অ্যাকসেসরিজসহ বিটিএমএ: মোট রিটেনশন: ৪০–৫০ শতাংশ । দেশবাসীর কাছে আমাদের প্রশ্ন আমরা কি আমদানি নির্ভর রপ্তানিতে আগ্রহী হবো?
তিনি বলেন, আমাদের দেশে গত ৪৫ বছর ধরে বন্ড সুবিধা চলমান যা শুরুতে রপ্তানিকারকদের উপকার করলেও বর্তমানে এই সুবিধার মারাত্মকভাবে অপব্যবহার করা হচ্ছে। একটা দেশে কত বছরের জন্য বন্ড সুবিধা চলবে? যতো সমস্যার মূলে রয়েছে এই বন্ড সুবিধা । অনতিবিলম্বে বন্ড সুবিধা বাতিল করতে হবে ।
তিনি আরও বলেন, উল্লিখিত সংকট অব্যাহত থাকলে—দেশের ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে । নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। ফলে ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ঝুঁকিতে পড়বে। এছাড়া প্রাইমারি টেক্সটাইল সেক্টরে সরাসরি ২৫ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান রয়েছে। পরোক্ষভাবে এই সেক্টরের ওপর প্রায় ১ কোটি মানুষ নির্ভরশীল। এই সেক্টরের যেকোনো সমস্যায় কর্মরত সকল মানুষের জীবিকা ঝুঁকিতে পড়বে ।
বিটিএমএ’র প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উল্লিখিত সুপারিশ দেওয়ার আগে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তারা একাধিকবার আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন । এর আগেও অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিটিএমএ, বিজিএমইএ এবং বিকেএমই এর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দেশীয় শিল্পের স্বার্থে একমত হয়েছিলেন যে, যেসব সুতা শতভাগ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা হচ্ছে, সেগুলো বন্ড সুবিধার বাইরে আনা হবে। অথচ এসব সিদ্ধান্তের কথা উপেক্ষা করে আমাদের বন্ধুগণের পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশকে একতরফা সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা মোটেও সঠিক নয়। এ ছাড়া, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর রপ্তানির ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পূরণ করতে হবে। একই ধরনের শর্ত যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাম্প্রতিককালে পার্শ্ববর্তী দেশ বর্নিত খাতে aggressive and supportive শিল্পনীতি (যেমন: capital subsidy, preferential interest rate, power subsidy, কমদামে জমি প্রদান, বিক্রয়ের উপর আয়করের অব্যহতি skill development এ বিশেষ আর্থিক সুবিধা প্রদান এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন) গ্রহণ করেছে । ফলে তাদের মিলগুলো প্রায় ৪০ সেন্টের সমপরিমাণ সহায়তা পেয়ে প্রতি কেজি সুতা রপ্তানিতে উৎপাদন খরচের চেয়ে ৪০-৫০ সেন্ট মূল্য কমিয়ে বাংলাদেশে রপ্তানি করছে। অপরদিকে স্থানীয় দেশীয় মিলগুলো প্রতিযোগী দেশসমূহের প্রণোদনা প্রদত্ত মূল্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। ফলে এ খাতে দেশীয় উদ্যোক্তারা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে এবং তাদের বিনিয়োগ হুমকির মধ্যে পড়েছে। দেশীয় সুতা কারখানা বন্ধ হলে ভবিষ্যতে নিট পোশাক খাত পুরোপুরি আমদানি নির্ভর হয়ে পড়বে। এতে পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে, লিড টাইম বাড়বে, মূল্য সংযোজন হ্রাস পাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বন্ড সুবিধা অব্যাহত থাকলে দেশীয় শিল্পে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে এবং উৎপাদন ব্যয় ও লিড টাইম বেড়ে যাওয়ার কারণে রপ্তানি খাতের সামগ্রিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস পাবে । বিপরীতে নিম্ন কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে দেশীয় স্পিনিং শিল্পে ভারসাম্য ফিরে আসবে, স্থানীয় উৎপাদন বাড়বে এবং কর্মসংস্থান সুরক্ষিত হবে ।
তিনি বলেন, আপনাদের অবহিত করছ, নভেম্বর, ২০২৬ এ বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হতে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উত্তীর্ণ হবে মর্মে আশা করা যাচ্ছে, উত্তরোণ পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রধান গন্তব্যস্থল যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ অন্যান্য দেশে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকবে না। গ্র্যাজুয়েশন উত্তর শুল্কমূক্ত সুবিধা ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রপ্তানি পণ্যের উৎপাদন খাতের মূল্য সংযোজনের হার ৪০-৫০ শতাংশের বেশি করার প্রয়োজন হবে। ক্ষেত্র বিশেষে Product Specific Rule (PSR) অনুযায়ী দ্বিস্তর বিশিষ্ট মূল্য সংযোজন (double stage transformation) করতে হবে। GSP + সুবিধা প্রাপ্তির জন্য ন্যূনতম ৪০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করতে হতে হবে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাতে রপ্তানি পণ্য শুল্কমূক্ত সুবিধাতেও ন্যূনতম ৫০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করতে হচ্ছে । সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রায় সকল ট্রেড নেগোসিয়েশনে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য শুল্কমূক্ত সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে double stage transformation করার বিষয়টিও জোরালোভাবে আলোচিত হয়েছে । আমেরিকার সাথে সরকারের আলোচনায় তাদের কাঁচামাল (তুলা) ব্যবহার করে সুতা ও কাপড় দ্বারা উৎপাদিত গার্মেন্টস রপ্তানির ক্ষেত্রে উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের আনুপাতিক হারে শুল্ক সুবিধা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে। তাই বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প বিশেষত নিট গার্মেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ আমদানিকৃত সুতার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে ভবিষ্যতে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া দূরহ হয়ে পড়বে।
এমতাবস্থায়, দেশের জুলাই আগস্টের আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে গঠিত সরকারের কাছে দেশের স্বার্থে অনতিবিলম্বে দেশীয় টেক্সটাইল খাতের ন্যায্য স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত দাবি বাস্তবায়নের অনুরোধ জানাচ্ছি:
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অর্থাৎ স্থানীয় শিল্প ও বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সংরক্ষণের স্বার্থে বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফ এর HS heading 52.05, 52.06, 52.07 এর আওতায় ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে ।

