কারও প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ কিংবা রাগ থেকে তার অমঙ্গল কামনা করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। ইসলামে অন্যের প্রতি হিংসা করাকে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যক্তি, পরিবার কিংবা সমাজে একে-অন্যের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ, ঈর্ষা, কলহ-বিবাদ ইত্যাদি শান্তিপূর্ণ জীবনকে বিষময় করে তোলে।
পবিত্র কুরআনেও হিংসা থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়েছে। মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘তারা কি লোকদেরকে হিংসা করে, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের যা দিয়েছেন তার কারণে? তাহলে তো আমি ইব্রাহিমের (আ.) বংশধরকে কিতাব ও হিকমত দান করেছি এবং তাদের দিয়েছি বিশাল রাজত্ব।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৫৪)
হিংসুকের জন্য যেমন হিংসা করা ক্ষতিকর, তেমনি যার প্রতি হিংসা করা হয় তার জন্যও এটি বিপদজনক। কারণ, হিংসার কারণে হিংসুক ব্যক্তি জুলুম করে, অন্যের ক্ষতিসাধন করে। এ জন্য পবিত্র কুরআনে হিংসুকের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে মহান রবের কাছে আশ্রয় চাওয়ার কথাও এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর (আশ্রয় চাই) হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা পোষণ করে। (সুরা ফালাক, আয়াত: ৫)
তবে ইসলামে কারও প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করার ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধ রয়েছে। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা পরস্পর সম্পর্ক ছিন্ন করবে না। পরস্পরকে ত্যাগ করবে না, পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ করবে না, পরস্পর হিংসা রাখবে না, বরং আল্লাহর বান্দা হয়ে ভাই ভাই হিসাবে থাকবে। কোনো মুসলিমের জন্য হালাল নয় তার অপর মুসলিম ভাইকে তিন দিনেরও বেশি পরিত্যাগ করে থাকা। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১৯৪১; সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৩৯)
এ ক্ষেত্রে কারও প্রতি হিংসা পোষণ করার পরিণামও ভয়াবহ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা হিংসা পরিহার কর। কেননা, হিংসা ভালো কাজকে তেমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেমনভাবে আগুন কাঠকে খায় (অর্থাৎ, জ্বালিয়ে ভস্মীভূত করে দেয়।) (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৪২১০; সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮২৩)
সুতরাং, কারও প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণের অর্থ হলো নিজের নেক আমল ধ্বংস করার মতো বোকামি করা। তবে ইসলামে ভালো কাজের স্বার্থে ও শিক্ষা নিতে ২ ব্যক্তির প্রতি হিংসা করার অনুমতি রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, কেবলমাত্র দু’টি ব্যাপারই ঈর্ষা করা যায়। (১) সেই ব্যক্তির ওপর, যাকে আল্লাহ তা’য়ালা সম্পদ দিয়েছেন, এরপর তাকে হক পথে অকাতরে ব্যয় করার ক্ষমতা দিয়েছেন এবং (২) সে ব্যক্তির ওপর, যাকে আল্লাহ তা’য়ালা হিকমত (প্রজ্ঞা বা জ্ঞান) দান করেছেন, এরপর সে তার সাহায্যে ফায়সালা করে ও তা শিক্ষা দেয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৩)

