spot_img

গ্রিনল্যান্ড দখল করলে ন্যাটোর অবসান ঘটবে, হুঁশিয়ারি ডেনমার্কের

অবশ্যই পরুন

গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অবস্থান ঘিরে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ডেনমার্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেছেন, ডেনমার্কের সম্মতি ছাড়া যদি যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের দখল নিতে চায়, তাহলে সেটি ন্যাটোর কার্যত অবসান ঘটাবে। একইসঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে চীনের সামরিক বা অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র যে দাবি করে আসছে, সেটিও অস্বীকার করেছেন তিনি।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, বুধবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্র কি কোপেনহেগেনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি অন্তত তা আশা করি না। কারণ সেটাই হবে ন্যাটোর অবসান।’

গ্রিনল্যান্ড আর্কটিক অঞ্চলের একটি স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড হলেও এটি ডেনমার্কের অন্তর্ভুক্ত। এর আগে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে আর্কটিক নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন রাসমুসেন। তিনি বলেন, অঞ্চলটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু উদ্বেগ ডেনমার্কও ভাগ করে নিলেও আলোচনার একটি সীমা রয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডের জনগণের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমাদের কিছু রেড লাইন আছে। এটা ২০২৬ সাল— আপনি মানুষের সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারেন, কিন্তু মানুষকে বাণিজ্যের বস্তু বানাতে পারেন না।’

আর্কটিক অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের উপস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের জবাবে রাসমুসেন স্পষ্টভাবে চীনের প্রভাব থাকার দাবি নাকচ করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রায় এক দশক ধরে আমরা সেখানে কোনও চীনা যুদ্ধজাহাজ দেখিনি। গ্রিনল্যান্ডে চীনের কোনও বিনিয়োগও নেই’। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে নিজেই হস্তক্ষেপ করে চীনা অবকাঠামো প্রকল্প ঠেকিয়েছিলেন, যাতে সেখানে ‘চীনের কোনও ছাপ’ না পড়ে।

গ্রিনল্যান্ডের জনগণ যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে যেতে চাইবে এমন ধারণাও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। ডেনমার্কের দেয়া সামাজিক সুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, গ্রিনল্যান্ডে স্ক্যান্ডিনেভীয় কল্যাণব্যবস্থার খরচ যুক্তরাষ্ট্র দেবে— এটা আমি বিশ্বাস করি না।’

তবে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেও রাসমুসেন জানান, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র একটি উচ্চপর্যায়ের ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে একমত হয়েছে। এই দলটি ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহের বিষয়গুলো নিয়ে ভবিষ্যৎ পথ খুঁজে দেখবে।

তিনি আরও বলেন, আর্কটিক অঞ্চলকে উত্তেজনাপূর্ণ এলাকা হয়ে ওঠা থেকে রক্ষা করতে ডেনমার্ক বিপুল বিনিয়োগ করেছে। শুধু গত বছরই এই অঞ্চলে সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কোনো অনিয়ম হলে ছাড় নেই: ইসি সানাউল্লাহ

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ