অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশে একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন মোতায়েন করেছে। এ মিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে।
আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের পলিটিক্যাল অ্যানালিস্ট মারসেল নেগি এবং ইলেকশন অ্যানালিস্ট ভাসিল ভাসচেনকা।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ১৭ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হবে, যারা নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে মূল দলের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন।
এ ছাড়া নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফলাফল তালিকাভুক্তকরণ পর্যবেক্ষণের জন্য ৯০ জন স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষক মিশনে যোগ দেবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনৈতিক সম্প্রদায় এবং অংশীদার দেশগুলো থেকেও আরও কয়েকজন স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষক এ মিশনে অন্তর্ভুক্ত হবেন।
ইইউ প্রতিনিধিরা আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করে মিশনটি সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি তথ্য-নির্ভর, সামগ্রিক ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ উপস্থাপন করবে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মিশনটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং এ উপলক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। প্রতিবেদনটি মিশনের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে একটি বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করবে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। ওই প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং সেটিও মিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
সাক্ষাতে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইলেকশন অবজারভেশন মিশনকে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

