রংপুরে হোমিওপ্যাথিক ওষুধালয় থেকে সংগৃহীত রেকটিফায়েড স্পিরিট এলকোহল পান কাণ্ডে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর অসু্স্থ্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তারা হলেন, বদরগঞ্জ উপজেলা গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের মহির উদ্দিন এর পুত্র আব্দুল মালেক ও রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম। মঙ্গলবার মধ্যরাতে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গত রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জয়নুল আবেদীনের বাড়িতে রেকটিফায়েড স্পিরিট এলকোহল পান করেন। বেশ কয়েকজন অসুস্থ্য হন। ঘটনাস্থলে মারা যান বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের পুত্র আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের পুত্র সোহেল মিয়া এবং সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জেন্নাদ আলি (৩৫)। আরও বেশ কয়েকজন অসুস্থ্য হয়ে গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এছাড়াও একই ধরণের অপর একটি ঘটনায় আরও একজন মারা যান হাসপাতালে।
রংপুর মহানগর পুলিশের হাজিরহাট থানার ওসি আজাদ রহমান জানান, সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর হাজিরহাট থানার বালারবাজারে এলকোহল খেয়ে অসুস্থ্য হন সদর কোতয়ালী থানার শিবের বাজার পশ্চিম হিন্দুপাড়ার মৃত অনিল চন্দ্র রায়ের পুত্র মানিক চন্দ্র রায় (৬০)। মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
ওসি আরও জানান, আরও বেশ কয়েকজন অসুস্থ্য হয়ে গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ সময় পুমাদক ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১০ বোতল রেকটিফাইড স্পিরিটের বোতল।
রংপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন জানান, স্থানীয় এক শ্রেণির হোমিওপ্যাথিক চেম্বার থেকে ওষুধগুলো সংগ্রহ করে থাকেন মাদক ব্যবসায়িরা। নগরীর একটি হোমিও চেম্বারে অভিযানও চালিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। এ নিয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

