ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক, গোয়েন্দা ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসির সহযোগী সিবিএস নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সূত্রগুলো জানায়, ইরানের ওপর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি সাইবার অভিযান এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির লক্ষ্যে প্রচারণা চালানোর প্রস্তাবও পেন্টাগনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্প বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ‘চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয়’।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল একটি বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট নিজে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কিনা, তা নিশ্চিত নয়।
এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র “খুব শক্তিশালী বিকল্প” বিবেচনা করবে। তিনি দাবি করেন, ইরানি নেতারা আলোচনার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, যদিও একই সঙ্গে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার আগেই পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।’’
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইরানের এক কর্মকর্তা ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। তার ভাষায়, তেহরানের প্রকাশ্য অবস্থান এবং গোপনে পাঠানো বার্তার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
হুংকার দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী, তবে দেশটি ‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’ অবস্থায় রয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক ভাড়াটে সৈন্যদের ওপর নির্ভর করার’ অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত সরকারপন্থি সমাবেশের প্রশংসা করে বলেন, “ইরানি জাতি শক্তিশালী এবং শত্রুদের ব্যাপারে সম্পূর্ণ সচেতন।”
সূত্র: বিবিসি বাংলা

